গান শুনতে শুনতে বা পছন্দের পডকাস্ট শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়া অনেকেরই অভ্যাস। রাতের নিস্তব্ধতায় হেডফোনের মাধ্যমে ভেসে আসা সুর বা কণ্ঠ মনকে শান্তি এনে দিলেও, আদতে এই অভ্যাস আপনার কানের জন্য ডেকে আনছে মারাত্মক বিপদ। দীর্ঘদিন ধরে হেডফোন লাগিয়ে ঘুমালে শ্রবণশক্তির অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘুমের সময় হেডফোন ব্যবহারের ফলে কানের উপর সরাসরি চাপ পড়ে। বিশেষত ইন-ইয়ার হেডফোনগুলি কানের নালীর মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আবদ্ধ থাকার কারণে বায়ু চলাচল ব্যাহত হয়। এর ফলে কানে সংক্রমণ, যেমন ওটিটিস এক্সটার্না (বহিঃকর্ণের সংক্রমণ) হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। কানে চুলকানি, ব্যথা এবং তরল নিঃসরণের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শুধু সংক্রমণই নয়, দীর্ঘক্ষণ উচ্চ ডেসিবেলের শব্দ সরাসরি কানের পর্দায় আঘাত হানতে থাকে। ঘুমের মধ্যে আমরা শব্দের তীব্রতা সম্পর্কে সচেতন থাকি না, ফলে অজান্তেই কানের ভেতরের সংবেদনশীল কোষগুলির ক্ষতি হতে শুরু করে। এই কারণে ধীরে ধীরে শ্রবণক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি টের না পাওয়া গেলেও, সময়ের সাথে সাথে কানে কম শোনা বা ঝিঁঝি পোকার আওয়াজ (টিনিটাস) অনুভব হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, ঘুমের সময় হেডফোন ব্যবহারের ফলে কানের রক্ত সঞ্চালনেও ব্যাঘাত ঘটতে পারে। দীর্ঘক্ষণ ধরে হেডফোন চেপে থাকার কারণে কানের आसपासের রক্তনালী সংকুচিত হতে পারে, যা কানের ভেতরের কোষগুলিতে অক্সিজেন সরবরাহে বাধা দেয়। এর ফলে কোষগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শ্রবণশক্তির ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়ে।
পাশাপাশি, ঘুমের সময় তারযুক্ত হেডফোন ব্যবহার করলে তা গলায় বা শরীরের অন্য কোনো অংশে পেঁচিয়ে দুর্ঘটনা ঘটারও আশঙ্কা থাকে। অসাবধানে টান লাগলে কানের পর্দা ফেটে যাওয়া বা অন্য গুরুতর আঘাত লাগতে পারে।
চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, বিনোদনের জন্য দিনের বেলায় সীমিত সময়ের জন্য হেডফোন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ঘুমের সময় কোনোভাবেই হেডফোন ব্যবহার করা উচিত নয়। কানের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন সচেতনতা এবং সঠিক অভ্যাস। রাতের শান্ত পরিবেশে ঘুমানোই শরীরের জন্য সবথেকে স্বাভাবিক এবং স্বাস্থ্যকর। তাই, সুরের মায়াজাল ত্যাগ করে নিজের কানের যত্ন নিন এবং একটি শান্তিপূর্ণ ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।