ওজন কমাতে চান? ডায়েটে যোগ করুন এই ৭টি ফল!

বাড়তি ওজন যে কোনো মানুষের জন্যই ক্ষতিকর। স্থূলতা কমাতে সঠিক ডায়েট, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং নিয়মিত ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। তবে কিছু ফল রয়েছে যা ওজন কমানোর এই কঠিন পথকে আরও সহজ করে তুলতে পারে। ফল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় একটি ফল থাকা আবশ্যক। নিয়মিত ফল খেলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের মাত্রা কমে যায়, যা ওজন কমাতে সহায়ক। নির্দিষ্ট কিছু ফল এক্ষেত্রে আরও বেশি কার্যকর। আসুন, জেনে নেওয়া যাক ওজন কমাতে সাহায্যকারী তেমন কিছু ফল সম্পর্কে:

ক্যাপসিকাম: সবজি হলেও ক্যাপসিকামের রয়েছে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার বিশেষ গুণ। প্রতিদিন ক্যাপসিকাম খেলে তা দেহের বাদামি ও জমাট চর্বিকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা ক্যাপসাইসিন নামক উপাদান শ্বেত রক্তকণিকাকে এই কাজে উৎসাহিত করে।

তরমুজ: তরমুজ একটি মিনারেল সমৃদ্ধ ফল এবং এতে ক্যালোরির পরিমাণও তুলনামূলকভাবে কম। প্রায় ১৫০-১৬০ গ্রাম তরমুজে মাত্র ৪৬ থেকে ৬১ ক্যালোরি পাওয়া যায়। কম ক্যালোরির পাশাপাশি এতে উচ্চ মাত্রায় আঁশ, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন সি, বেটাক্যারোটিন ও লাইকোপেনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তরমুজের শর্করা ধীরে ধীরে রক্তে মেশে, ফলে অন্যান্য খাবার গ্রহণের চাহিদা কমে যায়।

আপেল: আপেল উচ্চ আঁশ এবং ফ্লাভানয়েড পলিমারস সমৃদ্ধ, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পেতে খোসাসহ আপেল খাওয়া উচিত। এটি রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমে।

কমলা: অন্যান্য টক ফলের মতো কমলাও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এবং এতে ক্যালোরির পরিমাণ কম। এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমে। তবে রস করে খাওয়ার চেয়ে আস্ত কমলা খাওয়া বেশি উপকারী।

কলা: উচ্চ ক্যালোরি ও শর্করা থাকার কারণে অনেকেই ওজন কমানোর সময় কলা এড়িয়ে যান। তবে ক্যালোরি বেশি হলেও কলায় পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আঁশ এবং ভিটামিন এ, বি-সিক্স ও সি-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। কলার শর্করা ধীরে ধীরে শরীরে শোষিত হয়। তাই পরিমিত পরিমাণে কলা খেলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে।

নাশপাতি: ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, নাশপাতি ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে কারণ এতে ফ্লাভানয়েড পলিমারস নামক উপাদান রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে ১৩৮ মি.গ্রা. ফ্লাভানয়েড পলিমারসের উপস্থিতি ওজন বৃদ্ধির হার কমায়। তাই ওজন কমাতে চাইলে ফ্লাভানয়েড সমৃদ্ধ ফল খাওয়া উচিত। খোসাসহ নাশপাতি খেলে এর আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং এলোমেলো খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা যায়।

স্ট্রবেরি: ব্লুবেরি বা স্ট্রবেরির মতো ফলে ক্যালোরির মাত্রা কম থাকে কিন্তু অন্যান্য পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। আমাদের দেশে ব্লুবেরি সহজলভ্য না হলেও স্ট্রবেরি পাওয়া যায়। প্রায় ১৫২ গ্রাম স্ট্রবেরিতে ৫০-এরও কম ক্যালোরি থাকে।

পেয়ারা: উচ্চ ফাইবার যুক্ত পেয়ারা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার পাশাপাশি ওজন কমাতেও অত্যন্ত কার্যকর। এর গ্লাইসেমিক সূচক (Glycemic Index) কম হওয়ায় এটি ধীরে ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। একটি মাঝারি আকারের পেয়ারায় মাত্র ৩৭ ক্যালোরি থাকে এবং এতে কোনো কোলেস্টেরল নেই। তাই ওজন কমাতে পুষ্টিবিদরা পেয়ারার উপর আস্থা রাখেন।

ওজন কমানোর যাত্রায় এই ফলগুলো আপনার ডায়েটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, সুষম আহার এবং নিয়মিত ব্যায়ামই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।