আপনার শিশু কি কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছে? জেনে নিন লক্ষণ ও করণীয়

কোষ্ঠকাঠিন্য একটি পরিচিত হজমজনিত সমস্যা, যা শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সকলের ক্ষেত্রেই হতে পারে। মূলত অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই এর প্রধান কারণ। খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার বা খাদ্য আঁশের অভাব হলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়।
শিশুদের ক্ষেত্রে, বিশেষত এক বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক নয়, তবে অনেক সময় এটি গুরুতর রূপ নিতে পারে। অনেক বাবা-মা প্রাথমিকভাবে এই বিষয়টি বুঝতে পারেন না। তবে কিছু লক্ষণ রয়েছে, যা দেখে সহজেই বোঝা যেতে পারে আপনার শিশু কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছে কি না:
শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ:
মল ত্যাগে কষ্ট: খেয়াল করুন মল ত্যাগের সময় আপনার শিশু অতিরিক্ত কষ্ট পাচ্ছে কি না। কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মল শক্ত হয়ে যাওয়ায় তা সহজে বের হতে চায় না।
শক্ত মল: লক্ষ্য করুন শিশুর মল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শক্ত কি না। কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত শিশুর মল কঠিন, কালো এমনকি রক্ত মিশ্রিতও হতে পারে।
পেটে ব্যথা ও কান্না: কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে শিশুর পেটে ব্যথা হতে পারে। সহজে মল বের না হওয়ায় শিশু অস্থির হয়ে কান্নাকাটি করতে পারে।
পেট ফোলা ও অরুচি: এ সময় শিশুর পেট ফুলে যেতে পারে এবং সে খাবার খেতে অনীহা প্রকাশ করতে পারে। পেটে অতিরিক্ত গ্যাস জমা হওয়ার কারণেই এমনটা ঘটে।
অনিয়মিত মল ত্যাগ: কোষ্ঠকাঠিন্য হলে শিশুরা নিয়মিত মল ত্যাগ করে না। সমস্যা গুরুতর হলে ৫-১০ দিনেও শিশু মল ত্যাগ নাও করতে পারে।
শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হলে যা করবেন:
বুকের দুধ: শিশুকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ান। যদি ফর্মুলা দুধ খাওয়ান, তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সেটি পরিবর্তন করুন।
ফলের রস: শিশুর বয়স ৬ মাসের বেশি হলে ফিডারের মাধ্যমে ফলের রস খাওয়াতে পারেন।
জল পান: ৪ মাসের বেশি বয়সী শিশুদের প্রতিদিন ১-২ আউন্স জল পান করাতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে প্রথমে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার: ৬ মাসের বেশি বয়সী শিশুদের নরম ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ান।
মল ত্যাগে সাহায্য: শিশুকে মল ত্যাগের জন্য নির্দিষ্ট সময় বসিয়ে রাখার চেষ্টা করুন।
হালকা ব্যায়াম: নিয়মিত শিশুর পা ধরে সাইকেল চালানোর মতো আলতো ব্যায়াম করাতে পারেন। এতে পেটে গ্যাস জমবে না।
গরম জলে স্নান: শিশুকে হালকা গরম জল দিয়ে স্নান করান।
পেটে ম্যাসাজ: আলতোভাবে শিশুর পেটে ম্যাসাজ করুন। এতে জমা গ্যাস বের হতে সাহায্য করবে।
তাপমাত্রা পরীক্ষা: রেক্টাল থার্মোমিটার দিয়ে আপনার শিশুর তাপমাত্রা মেপে দেখুন।
শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক পরিচর্যা ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে শিশুকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব।