টলিউডের আকাশ জুড়ে এখন শোকের ঘন কালো মেঘ। বাঙালি দর্শকদের উপহার দিয়েছিলেন ‘অপরাজিত’, ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর মতো কালজয়ী সিনেমা। সেই অনীক দত্ত আর নেই। পরিচালকের অকাল প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকস্তব্ধ গোটা বিনোদন জগত। সবথেকে বেশি ভেঙে পড়েছেন অভিনেতা জীতু কমল, যিনি অনীক দত্তর পরিচালনায় ‘অপরাজিত’ ছবিতে সত্যজিৎ রায়ের চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি তারকা হয়ে উঠেছিলেন। প্রিয় অনীকদাকে হারিয়ে জীতু কমল যেন একবারে বাক্যহারা।
হাসপাতালে দৌড়ে এসেই জীতু কথা বলতে পারেননি। সংবাদমাধ্যম ও অনুরাগীদের কাছে ফেসবুক পোস্টে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে তিনি লিখেছেন, “আমি অনীকদার কাছে সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। ওঁনার পরিবারের পাশে থাকুন, আর কিছু বলার নেই। জানি বাইট নেওয়া আপনাদের কাজ, কিন্তু আমাকে ক্ষমা করবেন।” বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর একটি পোস্ট ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘শুয়ে আছে সেনা লাশকাটা ঘরে’…। জীতুর এই মর্মস্পর্শী পোস্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে, পরিচালককে হারিয়ে তিনি কতটা বিপর্যস্ত।
অনীক দত্তর সঙ্গে জীতুর রসায়ন ছিল ‘অপরাজিত’। জীতু নিজে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তাঁকে ‘সত্যজিৎ রায়’ হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে অনীক দত্তর অবদান ছিল অপরিসীম। এমনকি আইএমডিবি রেটিং-এ ‘কেজিএফ ২’-এর মতো ছবিকেও টেক্কা দিয়েছিল এই অনীক-জীতু যুগলবন্দি। সেই পরিচালকের এমন চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
ইতিমধ্যেই পরিচালকের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। আসল কারণ নিশ্চিত করতে আজই ঘটনাস্থলে পৌঁছাচ্ছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। অনীক দত্তর পরিবার সূত্রে খবর, তাঁর কন্যা ঐশী সুইডেন থেকে কলকাতায় ফিরলে তবেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। ঐশীর ফিরতে দেরি হলে বা সন্ধ্যা হয়ে গেলে আজ আর শেষকৃত্য হচ্ছে না। পরিচালকের স্ত্রী জানিয়েছেন, আগামীকাল সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য। বাঙালি দর্শকদের কাছে অনীক দত্ত চিরকাল বেঁচে থাকবেন তাঁর কাজের মাধ্যমে, কিন্তু জীতু কমলের মতো শিল্পীদের কাছে এই শূন্যস্থান পূরণ হওয়ার নয়।





