বলিউডের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে একসময়ের অপ্রতিরোধ্য নাম ইয়ো ইয়ো হানি সিং। পার্টি সং মানেই হানি সিং-এর ম্যাজিক। কিন্তু খ্যাতির শিখরে থাকাকালীন তিনি যে এক ভয়াবহ অন্ধকারের অতলে তলিয়ে গিয়েছিলেন, তা অনেকেরই অজানা। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন জনপ্রিয় এই র্যাপার। তিনি জানিয়েছেন, সাফল্য, মাদক এবং চূড়ান্ত অহংকারের সংমিশ্রণ কীভাবে তাঁকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।
২০১৩-১৪ সালের কথা। হানি সিং তখন সাফল্যের চূড়ায়। কিন্তু তিনি জানান, সেই সময় তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন না। তাঁর কথায়, “আমি তখন নিজের হুঁশে ছিলাম না। আমার হাঁটাচলা, কথাবার্তা সব বদলে গিয়েছিল। অহংকারের বশে আমি নিজেকে ভগবান মনে করতে শুরু করেছিলাম।” খ্যাতির শীর্ষে থাকার নেশায় তিনি মাদক ও মদের কবলে পুরোপুরি জড়িয়ে পড়েন। তিনি দিনের ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা নেশা করতেন। নেশার ঘোরে তিনি এতটাই হিংস্র হয়ে উঠেছিলেন যে, একবার বন্ধুর পেটে আটবার কামড়েও দিয়েছিলেন!
এই কঠিন সময়ে বলিউডের বড় বড় তারকারা তাঁর পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলেন। হানি সিং জানান, শাহরুখ খান, অক্ষয় কুমার, অমিতাভ বচ্চন এবং সালমান খানের মতো মানুষেরা তাঁকে বারবার সাবধান করেছিলেন। বিশেষ করে শাহরুখ এবং অক্ষয় কুমার সরাসরি তাঁকে বলেছিলেন যে, তিনি যা করছেন তা তাঁকে ধ্বংস করে দেবে। হানি সিং বলেন, “শাহরুখ ভাই আমাকে বারবার বলতেন, এই নেশার অভ্যাস তোকে শেষ করে দেবে, বরবাদ করে দেবে।”
তবে নিজের এই পরিণতির জন্য তিনি বিনোদন জগৎ বা অন্য কাউকে দোষারোপ করেননি। হানি সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, যা কিছু হয়েছে, তা তাঁর নিজের ভুল সিদ্ধান্তের ফল। বাইপোলার ডিসঅর্ডার এবং মাদকের নেশায় তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন তছনছ হয়ে গিয়েছিল। ২০১৭ সালে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তিনি সংগীত জগত থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে চিকিৎসা শুরু করেন। পরিবার থেকেও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তাঁর।
দীর্ঘ লড়াই এবং চিকিৎসার পর ২০২৩ সালে ‘কলাস্টার’ অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি ফের সংগীত জগতে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি তাঁর কাজ ও মিউজিক ট্যুর নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত। সম্প্রতি তাঁর অ্যালবাম ‘51 Glorious Days’ এবং ‘দে দে পেয়ার দে ২’ ছবির ‘ঝুম শরাবি’ গানটি দর্শকদের নজর কেড়েছে। অতীতের সেই অন্ধকার অধ্যায় কাটিয়ে হানি সিং এখন এক নতুন জীবনের পথে হাঁটছেন। নিজের এই স্বীকারোক্তি দিয়ে তিনি একদিকে যেমন নিজের ভুলের কথা মেনে নিয়েছেন, তেমনই তরুণ প্রজন্মের কাছে নেশার মরণফাঁদ থেকে দূরে থাকার এক সতর্কবার্তাও পৌঁছে দিয়েছেন।





