উর্দু সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র, আধুনিক গজলের প্রবাদপ্রতিম কবি বশির বদর ৯১ বছর বয়সে ভোপালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে তিনি পরলোকগমন করেন। তাঁর মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে সাহিত্যপ্রেমী ও লক্ষ লক্ষ ভক্তের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
১৯৩৫ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন বশির বদর। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা ও পিএইচডি সম্পন্ন করার পর তিনি অধ্যাপনার কাজে যুক্ত হন। সহজ-সরল ও চলিত ভাষার প্রয়োগে গজলকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়াই ছিল তাঁর অনন্য কৃতিত্ব। উর্দু সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়ায় ভুগছিলেন, যার ফলে তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও স্মৃতিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁকে চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ১৯৮৭ সালের মিরাট দাঙ্গায় তাঁর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হলে বহু অমূল্য ও অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি ভস্মীভূত হয়, যা তাঁর জীবনের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায়। ওই ঘটনার পর তিনি ভোপালে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁর লেখা গজলে প্রেম, মানবিকতা ও জীবনের কঠিন বাস্তবতার অপূর্ব সংমিশ্রণ আজও পাঠক ও শ্রোতাদের আলোড়িত করে। তাঁর প্রয়াণে আধুনিক গজল ধারার এক বর্ণময় যুগের অবসান ঘটল।





