ভারতীয় টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির মানচিত্র বদলে দেওয়া এমন অনেক মেগা সিরিয়াল রয়েছে, যা নির্মাণে প্রযোজকরা জলের মতো টাকা খরচ করেছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই বিনিয়োগ হয়েছে অত্যন্ত লাভজনক, আবার কোনোটি তৈরি করেছে সাফল্যের নতুন নজির। সিদ্ধার্থ কুমার তিওয়ারির মহাকাব্যিক নির্মাণ ‘মহাভারত’ থেকে শুরু করে একতা কাপুরের ঐতিহাসিক নাটক ‘যোধা আকবর’—এই প্রতিটি শো-ই টিআরপি তালিকার শীর্ষে থেকে ইতিহাস গড়েছে। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বিপুল আর্থিক লগ্নি এবং পরিশ্রম।
২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মহাভারত’ আজও ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাসে সবথেকে ব্যয়বহুল শো হিসেবে স্বীকৃত। নির্মাতারা টিভি ইন্ডাস্ট্রির চিরাচরিত গণ্ডি ভেঙে এটিকে একটি সিনেমাটিক অভিজ্ঞতায় রূপান্তর করেছিলেন। শোনা যায়, এই শো নির্মাণে খরচ হয়েছিল প্রায় ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা। শো-টির বিশালতা ফুটিয়ে তুলতে এর শুটিং করা হয়েছিল কাশ্মীর, জয়সলমার এবং জয়পুরের মতো প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক লোকেশনে। চরিত্রগুলোর পোশাক থেকে শুরু করে অলঙ্কার—সবকিছুতেই ছিল রাজকীয়তার ছোঁয়া।
‘মহাভারত’-এর কারিগরি দিকটিও ছিল দেখার মতো। এতে ব্যবহৃত স্পেশাল এফেক্টস ছিল হলিউড মানের। প্রায় ২০০ জনের একটি সুদক্ষ টিম দিনরাত এক করে কাজ করেছিলেন। খ্যাতিমান শিল্প নির্দেশক ওমুং কুমার গুজরাটের উমরগামে ১০ একর জমির ওপর যে বিশাল সেট তৈরি করেছিলেন, তা আজও দর্শকদের স্মৃতিতে অমলিন। প্রতিটি দৃশ্যে আধুনিক প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহার এই শো-টিকে দর্শকদের কাছে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জি টিভিতে প্রচারিত ঐতিহাসিক ব্লকবাস্টার ‘যোধা আকবর’। ২০১৩ সালে এই শো-টি যখন শুরু হয়, তখন এর নির্মাণ ব্যয় এবং সেট ডিজাইন নিয়ে চারদিকে হইচই পড়ে গিয়েছিল। শো-টির মোট বাজেট ছিল প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা। প্রতিটি পর্ব নির্মাণ করতে খরচ হতো প্রায় ৯ লক্ষ টাকা, যা সেই সময়ের নিরিখে ছিল অভাবনীয়।
রজত টোকাস এবং পরিধি শর্মা অভিনীত ‘যোধা আকবর’ ধারাবাহিকের প্রতিটি পর্ব ছিল এক একটি ভিজ্যুয়াল ট্রিট। বিশাল সেট, রানিদের জমকালো পোশাক এবং মুঘল ইতিহাসের নিখুঁত চিত্রায়ন এই শো-টিকে দর্শকদের কাছে সুপারহিট করে তুলেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে এই সিরিয়ালটি বার্ক (BARC) রেটিংয়ের শীর্ষে ছিল।
এই ধরনের ব্যয়বহুল সিরিয়ালগুলো শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম নয়, এগুলো ভারতীয় ছোট পর্দার সক্ষমতাকে প্রমাণ করেছে। আজ যখন আমরা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের চাকচিক্য দেখি, তখন মনে রাখা জরুরি যে এক দশক আগেই টিভি ইন্ডাস্ট্রি এই বাজেট এবং মেকিংয়ের মাধ্যমে দর্শকদের বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা উপহার দিয়েছিল। এই শো-গুলোর সাফল্যের রহস্য কেবল টাকা নয়, বরং ছিল নিখুঁত পরিকল্পনা এবং সৃজনশীলতার সমন্বয়।





