হেরেও হার নেই! পরাজয় থেকেই শিক্ষা নিয়ে বাজিমাত, দাবায় কেন দিব্যা দেশমুখের এই জয় এত গুরুত্বপূর্ণ?

মাত্র উনিশ বছর বয়সে মেয়েদের দাবার বিশ্বকাপে সাফল্য পাওয়ার পরও কেন একজন তরুণী ওপেন সেকশনে খেলতে গেলেন, সেই প্রশ্ন অনেকেই তুলেছিলেন। কারণ সেখানে ব্যর্থ হলে তার ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা লাগতে পারত। কিন্তু নাগপুরের এই বিস্ময় দাবাড়ু দিব্যা দেশমুখের কাছে পরাজয় শুধুই একটি সুযোগ। তার এই মানসিকতার প্রতিফলন দেখা গেল সম্প্রতি এক ম্যাচে।

ফিডে গ্র্যান্ড সুইস টুর্নামেন্টে ওপেন সেকশনে ৬ষ্ঠ রাউন্ডে দিব্যা মুখোমুখি হয়েছিলেন আফ্রিকার সেরা দাবাড়ু, বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯৪ নম্বরে থাকা আমিন বসেমের (Amin Bassem)। যেখানে দিব্যার নিজের র‌্যাঙ্কিং ৭৬১। এমন অসম লড়াইয়ে সবাই যখন দিব্যার পরাজয় দেখছিলেন, তখনই বাজিমাত করে দিলেন তিনি।

প্রথম তিন রাউন্ডে একটিও জয় না পেয়ে দুটি ড্র এবং একটি হার নিয়ে যখন তার ওপর চাপ বাড়ছিল, তখন তিনি বলেছিলেন, “যদি সমস্ত রাউন্ডও হেরে যাই, বদলে কিছু শিখতে পারি, আমি ঠিক থাকব!” তার এই মন্তব্য প্রমাণ করে, তিনি নিজেকে গড়ে তোলার জন্যই এই কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন।

ম্যাচের শুরুটা দিব্যার জন্য ভালো ছিল না। প্রতিপক্ষ বসেম শুরু থেকেই তার ওপর চাপ তৈরি করেন। ১৬তম চালে বসেম স্পষ্টতই এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু দিব্যা হাল ছাড়েননি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “আজ আমি পুরো ওপেনিং ভুলে গিয়েছিলাম। শুরুটা খুবই খারাপ ছিল। কিন্তু আমি খুশি যে সেখান থেকে ফিরে আসতে পেরেছি।”

দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোই ছিল তার আসল কৃতিত্ব। ৩৩তম চালে তিনি একটি অপ্রত্যাশিত চাল দেন, নিজের রুক বলিদান দিয়ে বসেমের রাজার রক্ষাকবচ ভেঙে দেন। এই ঝুঁকিপূর্ণ চালটিই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর ৪৩তম চালের দিকে বসেমের চেকমেট হয়ে যাওয়া ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা। ৪৭তম চালে শেষ পর্যন্ত আফ্রিকার সেরা এই দাবাড়ু আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।