সব জল্পনার অবসান! অবশেষে কার হাতে গেল মেগা ধারাবাহিক ‘সতীপীঠ কালীঘাট’-এর পরিচালনার দায়িত্ব?

টেলিভিশন দুনিয়ায় দীর্ঘ জল্পনা এবং চরম বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হয়ে গিয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত নতুন মেগা ধারাবাহিক ‘সতীপীঠ কালীঘাট’-এর শুটিং। টলিপাড়ার অত্যন্ত পরিচিত টেকনিশিয়ান্স স্টুডিয়োতে তপন সিনহা ফ্লোরে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে চুটিয়ে চলছে এই ধারাবাহিকের দৃশ্যধারণের কাজ। রয় সিনেওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেডের প্রযোজনাতেই দর্শকদের ড্রয়িংরুমে আসছে এই নতুন আকর্ষণীয় ধারাবাহিকটি। বিগত কিছুদিন ধরে এই মেগার মূল কাহিনি এবং চিত্রনাট্য নিয়ে লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রযোজক সুব্রত রায়ের তীব্র জটিলতা ও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, লেখিকার বিস্ফোরক অভিযোগের জেরে ধারাবাহিকটিকে মূল প্রযোজনা সংস্থা রয় সিনেওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেডের হাত থেকে সরিয়ে নেওয়ার জোর জল্পনা টলিপাড়ার অন্দরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছিল।
টেলিপাড়ার একটি বড় অংশ ধরেই নিয়েছিল যে, সংশ্লিষ্ট চ্যানেলটি নিজেদের ইনহাউস টিমের মাধ্যমেই এই প্রজেক্টের সমস্ত কাজ পরিচালনা করবে এবং এই ধারাবাহিকের সঙ্গে প্রযোজক সুব্রত রায় আর কোনোভাবেই জড়িত থাকবেন না। কিন্তু সমস্ত জল্পনা ও গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত ‘সতীপীঠ কালীঘাট’ মেগার মূল পরিচালনার দায়িত্ব রয়ে গেল সুব্রত রায়ের হাতেই। গত ৪ আগস্ট দুপুর ১টায় এই ধারাবাহিকের মূল কলটাইম ছিল এবং সেদিন থেকেই সফলভাবে শুরু হয়ে গিয়েছে শুটিং। প্রযোজক সুব্রত রায় স্বয়ং ‘ইটিভি ভারত’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানান যে, ধারাবাহিকটি সম্পূর্ণ তাঁরই হাতে রয়েছে। ইতিমধ্যেই শুটিং ফ্লোরে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এর সম্প্রচারের দিনক্ষণও চ্যানেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান যে, এই ধারাবাহিকের মূল গল্পের নায়িকার জীবনের দুটি আলাদা বয়স পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হবে, তবে কেন্দ্রীয় চরিত্রে কারা অভিনয় করছেন তা নিয়ে রহস্য বজায় রেখেছেন প্রযোজক।
প্রসঙ্গত, এই সমগ্র বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল যখন লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায় তাঁর সামাজিক মাধ্যমের পেজে একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি ছিল, ধারাবাহিকটির মূল কাহিনি নির্মাণের দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হলেও চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে সঠিক সম্মানী দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁকে যে পোস্ট-ডেটেড চেক দেওয়া হয়েছিল, তা ব্যাঙ্কে জমা করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। নিজের দাবির সত্যতা প্রমাণ করতে লেখিকা একাধিক ডিজিটাল স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেন, যার জেরে গোটা প্রযোজনা সংস্থাকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক দানা বাঁধে।
অন্যদিকে, প্রযোজক সুব্রত রায় পালটা সাফাই দিয়ে জানান যে, দেবারতি মুখোপাধ্যায় ‘সতীপীঠ কালীঘাট’-এর কাহিনি লেখার জন্য যে অঙ্কের টাকা দাবি করেছিলেন, সেই টাকা তিনি তাঁর অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং তার সমস্ত আইনি প্রমাণও তাঁর কাছে সুরক্ষিত রয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান যে, দেবারতিকে পাঠানো ই-মেলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে তাঁর লেখা গল্প অনুমোদিত হওয়ার পরেই তাঁকে মূল স্টোরি রাইটার হিসেবে নিযুক্ত করা হবে। কিন্তু তাঁর জমা দেওয়া খসড়াটি পর্যালোচনার পর অনুমোদিত হয়নি এবং সেকথা তাঁকে যথাসময়ে জানিয়েও দেওয়া হয়েছিল। টেলিভিশন জগতের প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুযায়ী, যে গল্পের খসড়া অনুমোদিত হয় না, তার জন্য প্রযোজকের কোনো আর্থিক পারিশ্রমিক দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে না। তিনি আরও যোগ করেন যে দেবারতির জমা দেওয়া কোনো অংশই এই মেগায় ব্যবহার করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, সমস্ত বিতর্ক পেছনে ফেলে কালিমন্দিরের ইতিহাস ও পৌরাণিক উপাদানের মিশেলে তৈরি এই মেগাটি শীঘ্রই পর্দায় আসার অপেক্ষায় রয়েছে।