ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নাগাল পাওয়া দায়! বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান!

ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে এক চাঞ্চল্যকর ও সংবেদনশীল মন্তব্য করে বিশ্ব রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার সরকারিভাবে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান উত্তপ্ত ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের সর্বোচ্চ নেতা বা সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা এই মুহূর্তে অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও সর্বোচ্চ নেতার উপস্থিতি এবং তাঁর পরোক্ষ দিকনির্দেশনা এখনও ইরানের সামগ্রিক প্রশাসনিক নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও অবিচল শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে চলেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, বর্তমানে যোগাযোগ করা যতই কঠিন হোক না কেন, সংকটময় এই মুহূর্তে মোজতবা খামেনেইর উপস্থিতি দেশের নীতিনির্ধারক ও নেতৃত্বের মনোবল বজায় রাখতে এবং গোটা প্রক্রিয়াটিকে সুচারুভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের সূচনালগ্নে আমেরিকা ও ইজরায়েলের এক যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই। বাবার সেই মর্মান্তিক মৃত্যুর পরেই তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনেই ইরানের সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতার গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। তবে ওই একই যৌথ হামলায় তিনি নিজেও গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন এবং তারপর থেকে আজ পর্যন্ত তাঁকে কোনো জনসমক্ষে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
যদিও তিনি মাঝেমধ্যে বিভিন্ন লিখিত সরকারি বিবৃতি ও বার্তা প্রকাশ করেছেন, তবুও জনসমক্ষে তাঁর এই দীর্ঘ ও রহস্যজনক অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাঁর শারীরিক অবস্থা, সুস্থতা এবং অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর কার্যনির্বাহী সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এমনকি গত মাসে তাঁর প্রয়াত বাবার জাঁকজমকপূর্ণ শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানেও মোজতবা খামেনেই সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে এই সমস্ত সংশয় ও সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সর্বোচ্চ নেতার পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে তাঁর যে সমস্ত বৈঠক ও আলোচনা হয়েছে, সেগুলি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক ছিল। খামেনেইকে একজন ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত’ মানুষ হিসেবে অভিহিত করে পেজেশকিয়ান বলেন যে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এবং বিরোধী দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মোজতবা খামেনেই সম্পর্কে সমাজে ভুল ও নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান যে, কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব যখন ১৩ জন সদস্যের মধ্যে ১২ জনের জোরালো সমর্থন পেয়েছিল, তখন সর্বোচ্চ নেতা নিজে সেই பெரும்பধের সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সম্মান জানিয়ে তা মেনে নিয়েছিলেন। পেজেশকিয়ান এই প্রসঙ্গে আরও বলেন যে, সর্বোচ্চ নেতা যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ সঠিক ও বাস্তবসম্মত ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, বিশেষজ্ঞদের সুচিন্তিত মতামত গ্রহণের মতো একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তকেও পরবর্তীকালে কিছু মানুষ অযথা বিতর্ক সৃষ্টি এবং ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। মোজতবা খামেনেইর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের এই গোপনীয়তা এবং অভ্যন্তরীণ জটিলতার আবহে ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।