লড়াইয়ের আর এক নাম ধর্মেন্দ্র! ৮৯-এও ‘হি-ম্যান’ হাসছেন, হাসপাতালের বেড থেকেও আসছে ‘সাহসী’ বার্তা

বলিউডের ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে, যা এক সময়কে ছাপিয়ে চিরন্তন হয়ে ওঠে। ৮৯ বছর বয়সী ধর্মেন্দ্র সেই বিরল কিংবদন্তিদের অন্যতম। মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে ভর্তি রয়েছেন তিনি। তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে গোটা দেশে উদ্বেগ থাকলেও, অনুরাগীরা জানেন—ধর্মেন্দ্র মানেই লড়াই, ধর্মেন্দ্র মানেই হাজার বিপর্যয়েও হেসে এগিয়ে চলা এক অদম্য জীবনদর্শন।

পাঞ্জাবের গ্রাম থেকে ‘শোলে’র সেট: ১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পাঞ্জাবের লুধিয়ানা জেলার সাহনেওয়াল গ্রামে ধর্মেন্দ্র কেওয়াল কৃষণ দেওলের জন্ম। ছোটবেলায় সিনেমার পর্দা ছিল তাঁর কাছে এক জাদুর জগৎ। গ্রামের কাদামাখা পথে হাঁটতে হাঁটতে তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন, একদিন তিনিও বড় পর্দায় আলো ছড়াবেন। ফিল্মফেয়ারের ট্যালেন্ট কনটেস্ট জিতে ১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হম ভি তেরে’ দিয়ে তাঁর বলিউডে পথচলা শুরু। তবে ‘ফুল অউর পাথ্থর’ (১৯৬৬) এবং ‘সত্যকাম’ (১৯৬৯)-এর মতো ছবি তাঁকে শক্তিমত্তা ও সংবেদনশীলতার এক অনন্য মিশেলে বলিউডের ‘হি-ম্যান’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

চিরন্তন প্রেমকথা: হেমা-ধর্মেন্দ্র উপাখ্যান: ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর প্রেমের গল্প আজও বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত উপাখ্যান। ‘তুম হাসিন ম্যায় জওয়ান’ ছবির সেট থেকে শুরু হওয়া প্রেম ‘শোলে’তে রোমান্সের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করে। প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরের সঙ্গে সংসার থাকা সত্ত্বেও, সমাজের সব সমালোচনা উপেক্ষা করে হেমাকে গ্রহণ করেছিলেন ধর্মেন্দ্র। তিনি বলেছিলেন, “আমি কাউকে আঘাত করিনি, শুধু হৃদয়ের কথা শুনেছি।” হেমা মালিনী তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, “তিনি একই সঙ্গে শক্তিশালী ও কোমল। ঝড়ের মধ্যেও পাহাড়ের মতো পাশে থেকেছেন।” আজও তাঁদের দুই মেয়ে ঈশা ও অহনা জানান, বাবা মায়ের উদ্দেশে নিয়মিত শায়রি লেখেন।

পর্দার বাইরেও যিনি দার্শনিক: ‘শোলে’-তে বীরুর কালজয়ী সংলাপ—“বসন্তি, ইন কুত্তোঁ কে সামনে মৎ নাচনা”—ধর্মেন্দ্রর সাহসিকতার প্রতীক। তবে পর্দার বাইরে তিনি সম্পূর্ণ অন্য মানুষ। বিনয়ী, মাটির কাছাকাছি। খ্যাতি শীর্ষে থেকেও লোনাভালার খামারে ট্রাক্টর চালান, চাষের ভিডিও পোস্ট করেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “দেনে ওয়ালে নে সব কিছু দিয়া, বাস যো চাহা, ওহ নেহি দিয়া।”—এই দার্শনিক সরলতাই তাঁকে তারকাসুলভ সীমা ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে অমর করে রেখেছে।

হাসপাতালে ভর্তি এই কিংবদন্তির জন্য আজ সারা দেশ প্রার্থনা করছে। ডিসেম্বরে তাঁর আসন্ন ছবি ‘ইক্কিস’ মুক্তি পাবে। যুদ্ধ ও সাহসিকতার এই গল্প যেন তাঁর নিজের জীবনেরই প্রতিচ্ছবি।