প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট উধাও কাণ্ডের পরেই মেটাকে কড়া বার্তা কেন্দ্রের! অ্যালগরিদম বদলানোর জন্য দিতে হবে রোডম্যাপ

ডিপফেক, ভুয়ো প্রোপাগান্ডা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে এবার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের প্যারেন্ট কোম্পানি মেটা (Meta)-র বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)-এর পক্ষ থেকে মেটাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই বিষয়ে আর কোনও অজুহাত বা কালক্ষেপণ বরদাস্ত করা হবে না। প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম আমূল বদলানোর পাশাপাশি কীভাবে সমস্ত বেআইনি ও বিকৃত কন্টেন্ট ছাঁটাই করা হবে, তার একটি নির্দিষ্ট ‘কমপ্লায়েন্স রোডম্যাপ’ বা অ্যাকশন প্ল্যান দ্রুত জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মেটা কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরেই এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে টেক জায়ান্টটিকে একাধিক কঠিন শর্ত মেনে চলার বার্তা দেওয়া হয়েছে:

  • অ্যালগোরিদম পরিবর্তন: ডিপফেক ভিডিও, ভুয়ো খবর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার দ্রুত চিহ্নিত ও ব্লক করতে মেটাকে তাদের অ্যালগোরিদম ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজাতে হবে।

  • দ্রুত পদক্ষেপ ও তথ্য স্থানীয়করণ: সরকারি বা অনুমোদিত সংস্থাগুলি কোনও কন্টেন্ট ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করলেই তা অবিলম্বে প্ল্যাটফর্ম থেকে সরাতে হবে। পাশাপাশি ভারতের ‘ডেটা-লোকালাইজেশন’ (তথ্য স্থানীয়করণ) সংক্রান্ত নিয়মও কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

  • কুইক রেসপন্স টিম: এআই-প্রস্তুত বিকৃত ছবি ও ডিপফেক রুখতে সরকারের বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স টিম’-এর সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে মেটাকে।

আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি ও ঘটনার সূত্রপাত: জানা গিয়েছে, মেটার প্রযুক্তিগত দল বর্তমান কনটেন্ট ফিল্টারিং ব্যবস্থার কিছু ত্রুটির কথা মেনে নিয়েছে এবং নতুন প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছে। তবে বিষয়টি কেবল আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছে না কেন্দ্র। মেটা ভারতের আইটি আইনের ‘ইন্টারমিডিয়ারি’ (Intermediary) বা মধ্যস্থতাকারীর নিয়মাবলী সঠিকভাবে মেনে চলছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে মেটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞদের মতামতও চাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি এই কড়া অবস্থানের পেছনে একটি বড় কারণ ছিল। দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফেসবুক পোস্ট—যেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে কড়া পদক্ষেপের বার্তা ছিল—হঠাৎ করেই প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিয়েছিল মেটা। যদিও পরবর্তীতে একে ‘কারিগরি ত্রুটি’ বলে ব্যাখ্যা করে ক্ষমা চাওয়া হয় এবং পোস্টটি পুনরুদ্ধার করা হয়, তবুও এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের এই কড়া পদক্ষেপে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টগুলির ওপর রাশ টানার ইঙ্গিত স্পষ্ট বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।