রিচালকের আসনে উজান গঙ্গোপাধ্যায়! সুকুমার রায়ের কবিতায় সুপারহিরোর ম্যাজিক নাকি অন্য কিছু?

পরিচালক হিসেবে টলিউডে নতুন ইনিংস শুরু করলেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় ও চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের সুযোগ্য পুত্র উজান গঙ্গোপাধ্যায়। ‘রসগোল্লা’র হাত ধরে অভিনয়ে পা রাখা উজান এবার ক্যামেরার পেছনে। তাঁর প্রথম পরিচালিত ছবি ‘কাতুকুতু বুড়ো’। ছবির প্রচারের ফাঁকে আড্ডায় বসে উজান জানালেন, পরিচালনা করা মানে কেবল ‘লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন’ বলা নয়, বরং গোটা টিমকে আগলে রাখা। বাবার বাড়ি বসে মেসি-আর্জেন্টিনার খেলা দেখার সুযোগ না পেলেও, নিজের প্রথম ছবিকে ঘিরেই এখন আচ্ছন্ন তিনি।

পরিচালক উজান জানান, পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি কোনোদিন বাবা-মায়ের শৈলী অনুকরণ করেননি। ছোটবেলা থেকেই শিখেছেন কীভাবে মানুষকে নিয়ে চলতে হয়। ছবিতে মা চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় থাকলেও, দর্শক যেভাবে ভাবছেন, চরিত্রটি ঠিক তেমন নয়। তবে মা’কে পরিচালনা করার সময় ছেলে হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই একটা নার্ভাসনেস কাজ করেছে তাঁর মধ্যে।

ছবিতে প্রয়াত অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয় প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন উজান। তিনি বলেন, “রাহুল দা’কে নিয়ে কথা বলতে আমার আটকাচ্ছে। ছোটবেলা থেকে ওঁর সঙ্গে পরিচয়, আমার প্রথম ছবিতেই ওঁকে পাওয়াটা বিশাল পাওনা।”

সুকুমার রায়ের অমর কবিতা ‘কাতুকুতু বুড়ো’র ছায়া অবলম্বনে তৈরি হলেও, উজান স্পষ্ট করেছেন যে এটি কেবল একটি কবিতার চিত্ররূপ নয়। তিনি বলেন, “সুকুমার রায়ের কবিতা মানেই ননসেন্সের আড়ালে এক গভীর সেন্স। ছোটবেলার বিষয়গুলোকে আজ সমাজ যেভাবে জটিল করে তুলছে, সেই পরিস্থিতি থেকেই এই ছবির জন্ম। এতে হাসিও আছে, আবার কান্নাও আছে।” ছবির গানে প্রেমের ছোঁয়াও দর্শকদের মুগ্ধ করবে বলে আশা পরিচালকের। সব মিলিয়ে, উজান গঙ্গোপাধ্যায়ের এই প্রথম অভিযান বাংলা সিনেমার দর্শকদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতার অপেক্ষায়।