রাজনীতি থাক বাইরে! ‘দাদাগিরির মঞ্চে এক ছাদের তলায় সজল, মদন, কুণাল ও নওশাদ; প্রকাশ্যে মহাঝাঁজালো প্রোমো!

রাজনীতির ময়দান থেকে সোজা টেলিভিশনের বিনোদন মঞ্চ! গত কয়েক দিন ধরে চলা সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রকাশ্যে এল জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দাদাগিরি’-র বিশেষ পর্বের নতুন প্রোমো। আর সেই প্রমোতেই একসঙ্গে দেখা মিলল বাংলার রাজনীতির একাধিক পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখকে। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের হেভিওয়েট নেতাদের এক মঞ্চে দেখার পর থেকেই দর্শকদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে।
ক্রিকেট মাঠে ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের জুতোয় পা গলিয়ে ‘দাদাগিরি’র সঞ্চালনার দায়িত্ব দারুণভাবে সামলাচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেতা তথা সাংসদ দেব। তাঁর সঞ্চালনায় এই নতুন সিজনে প্রতিটি পর্বেই নতুন চমক থাকছে। কখনও সেলিব্রিটি অতিথি তো কখনও বিশেষ থিম—দর্শকদের বিনোদন দিতে কোনো কমতি রাখছে না টিম। এবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই নিয়ে আসা হল এই রাজনৈতিক মহারথীদের বিশেষ পর্ব।
এর আগে গুঞ্জন শোনা গেলেও নতুন প্রোমো প্রকাশের পর অতিথিদের তালিকা অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। জানা গেছে, এই স্পেশ্যাল এপিসোডে উপস্থিত থাকছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ, তৃণমূলের কুণাল ঘোষ এবং হেভিওয়েট নেতা মদন মিত্র। পাশাপাশি নতুন প্রোমোয় দেখা গিয়েছে বারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি, ভাঙরের জনপ্রিয় বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এবং ডোমকলের বিধায়ক তথা বিধানসভায় বাম শিবিরের একমাত্র প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমানকে। রাজনৈতিক ময়দানে যাঁদের বাকযুদ্ধ হামেশাই খবরের শিরোনামে থাকে, তাঁদের একসঙ্গে একই মঞ্চে হাসি-মশকরার ছলে দেখতে পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
রাজনীতির মঞ্চে যাঁদের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে, বিনোদনের এই রঙিন আলোয় তাঁদের ঠিক কতটা অন্য মেজাজে পাওয়া যাবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয়। মদন মিত্রের চিরচেনা রসিকতা, সজল ঘোষের চটজলদি জবাব কিংবা কুণাল ঘোষের তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক মন্তব্য—সব মিলিয়ে একটি জমজমাট ও বিস্ফোরক পর্বের অপেক্ষায় দর্শকরা। অন্যদিকে, নওশাদ সিদ্দিকির যুক্তিনির্ভর বাচনভঙ্গি এবং তরুণ তুর্কি কৌস্তভ বাগচির উপস্থিতি এই আসরে অন্য মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে প্রোমোতে বাম নেতা শতরূপ ঘোষের দেখা না মেলায় কিছুটা হতাশ হয়েছেন তাঁর ভক্তরা। চ্যানেলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে অনেকেই তাঁর উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, ভিন্ন মেরুর এতজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বকে নতুন সঞ্চালক দেব কীভাবে সামলান এবং কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখেন, সেদিকেও নজর রয়েছে সবার।