যৌন নির্যাতনের বিস্ফোরক অভিযোগ থেকে বিতর্কের ঝড়! বাংলার বিগ বসের ঘরে এবার পা রাখছেন সায়ক-স্যান্ডি?

অপেক্ষা আর মাত্র কয়েকদিনের। আগামী ৩১ অগস্ট থেকে বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় মহাসমারোহে শুরু হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত রিয়ালিটি শো ‘বিগ বস’ (Bigg Boss Bangla)। এই জনপ্রিয় শোয়ের মহা-মঞ্চে সঞ্চালক হিসেবে দেখা যাবে ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক তথা ‘প্রিন্স অফ ক্যালকাটা’ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। সম্প্রচারের তারিখ যতই এগিয়ে আসছে, ততই প্রতিযোগী কারা হচ্ছেন তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। দিনকয়েক ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে যে, এবারের ‘বিগ বস’-এর ঘরে প্রতিযোগী হিসেবে দেখা যেতে পারে জনপ্রিয় অভিনেতা তথা ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তীকে।
এই প্রসঙ্গে সরাসরি সায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রহস্য জিইয়ে রেখেই জানান, “এরকম কোনও খবর আমার কাছে এখনও নেই। আপনাদের কাছে আছে? আর যদি যাইও, তা হলে বিষয়টা খুব কঠিন। মানে কঠিন দিন আসতে চলেছে আমার জীবনে। আমি তো বোধহয় এক কোণেই পড়ে থাকব ভয়েতে। মানুষ এতকিছু করবে ওখানে। আমি ভাবিওনি কোনওদিন যে এরকম কোনও জায়গায় আমি যাবো।” সায়কের এই রাখঢাকহীন কথা থেকেই অনুরাগীদের একাংশ ধরে নিচ্ছেন যে তিনি সম্ভবত বিগ বসের ঘরে পা রাখতে চলেছেন। তবে বাকিটা সময়ের ওপরই নির্ভর করছে। ইটিভি ভারতের পক্ষ থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তিনি নিজের জীবনে কাকে ‘বস’ ভাবেন? জবাবে সপাটে সায়ক জানান, তিনি নিজেই নিজের ‘বস’।
এই মুহূর্তে টেলিভিশনের কোনো ধারাবাহিক, ছবি কিংবা ওয়েব সিরিজে সায়কের দেখা মিলছে না। নানা চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে সায়ক বর্তমান প্রজন্মের একজন অন্যতম ‘বিতর্কিত’ তারকা হিসেবে পরিচিত। তাঁকে নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা সোশ্যাল মিডিয়ায় থামার নাম নেয় না। এই সমস্ত বিতর্ককে সঙ্গী করেই তিনি নিয়মিত সক্রিয় রয়েছেন সোশ্যাল মাধ্যমে। কাজ না থাকা প্রসঙ্গে সায়ক অকপটে বলেন, “সোশাল মিডিয়ার উপরেই নির্ভর করে আছি। এ ছাড়া নিজেকে আরও গ্রুমিং করছি, যাতে অভিনয় দক্ষতাটা আরেকটু বাড়ানো যায়।”
শুধু সায়কই নন, ‘বিগ বস বাংলা’র সম্ভাব্য প্রতিযোগীর তালিকায় নাম উঠে আসছে আরও এক চর্চিত ইনফ্লুয়েন্সার স্যান্ডি সাহার। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, এই শোয়ের সুবাদেই এবার একসময়ের বন্ধু থেকে পরে একে অপরের ‘চোখের বালি’ হয়ে ওঠা সায়ক এবং স্যান্ডি মুখোমুখি হতে চলেছেন। খবরের সত্যতা যাচাই করতে স্যান্ডি সাহাকে ফোন করা হলেও তাঁর তরফে কোনো উত্তর মেলেনি। ফলে এটি নেহাতই জলঘোলা নাকি সত্যি, তা কেবল সময়ই বলবে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস আগে এই দুই জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারের পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়িতে উত্তাল হয়ে উঠেছিল নেটপাড়া। সায়ক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর ও ন্যক্কারজনক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন স্যান্ডি সাহা। ‘এমটিভি রোডিস’ খ্যাত এই ইনফ্লুয়েন্সার দাবি করেছিলেন, তাঁর উপর নাকি দীর্ঘ সময় ধরে পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়েছিল। সায়ক-স্যান্ডির এহেন বিস্ফোরক কেচ্ছায় সেসময়ে সরগরম ছিল গোটা সাইবার দুনিয়া। আর এবার ২০২৬ সালের অগস্ট মাসে দাঁড়িয়ে ফের কি একই ছাদের নিচে মুখোমুখি হতে চলেছেন এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী? সেই উত্তর পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন দর্শকরা।
আগামী ৩১ অগস্ট বাংলার একটি জনপ্রিয় বিনোদন চ্যানেলে শুরু হতে চলা ‘বিগ বস’ রিয়ালিটি শোয়ের ঘরে কোন কোন তারকা প্রবেশ করবেন, তা নিয়ে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। হিন্দি সংস্করণের ট্রেন্ড অনুযায়ী, সাধারণত বিতর্কিত সেলেবরাই এই শোয়ের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠেন। সেই ফর্মুলা মেনেই কি সায়ক ও স্যান্ডির ডাক পড়েছে? অতীতের সমস্ত তিক্ততা ও অভিমান ভুলে তাঁরা কি ফের বন্ধুত্বের হাত বাড়াবেন, নাকি প্রতিযোগিতার ইঁদুরদৌরে দূরত্ব আরও বাড়বে? উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই। প্রসঙ্গত, সায়কের গোমাংস বিতর্ক থেকে শুরু করে প্রাক্তন বধূ সুস্মিতা রায়ের সঙ্গে আইনি বিবাদ কিংবা স্যান্ডির আনা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ—সবমিলিয়ে সায়কের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই শিরোনামে থেকেছে। পাশাপাশি বন্ধু দেবলীনা নন্দীর ডিভোর্সের নেপথ্যেও তাঁকে ‘ঘরভাঙানি’ বলে ট্রোলের শিকার হতে হয়েছে। এত বিতর্ক মাথায় নিয়ে তিনি বিগ বসের ঘরে কতটা টিকে থাকেন, সেটাই এখন দেখার।