মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে নিজের পরিণতি টের পেয়েছিলেন কিশোর কুমার? কিংবদন্তি শিল্পীর জীবনের শেষ কথা শুনে শিউরে উঠবেন!

সঙ্গীতজগতের জীবন্ত কিংবদন্তি ও অমর সুরকার কিশোর কুমার শুধু তাঁর জাদুকরী ও বৈচিত্র্যময় কণ্ঠের জন্যই নয়, বরং তাঁর অনবদ্য রসিকতা, প্রাণোচ্ছল স্বভাব এবং নিখাদ আড্ডাবাজ মেজাজের জন্যও চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। শুটিংয়ের ব্যস্ত সেট হোক কিংবা বসার ঘরের ঘরোয়া আড্ডা—নিজের অনন্য উপস্থিতিতেই চারপাশের থমথমে পরিবেশকে নিমেষে হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত করে তোলার এক অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল তাঁর। বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী কিংবা পরিবারের যেকোনো সদস্য, তাঁর মজার ছলে বলা কথা ও স্বভাবসুলভ ঠাট্টা থেকে রেহাই পেতেন না কেউই। সুরের জাদুকর হিসেবে তিনি ছিলেন বাংলা তথা ভারতীয় সংগীতের এক অনন্য ও সোনালী অধ্যায়। যেকোনো মেজাজের বা ধারার গানই হোক না কেন, তাঁর জাদুকরী কণ্ঠে তা পেত এক আলাদা প্রাণ এবং রাতারাতি সেই ছবিকে পৌঁছে দিত জনপ্রিয়তার একেবারে শিখরে।

তবে এই কালজয়ী শিল্পীর বর্ণাঢ্য জীবন ঘিরে শুধুই সুরের সাধনা আর হাসিমুখের গল্প ছিল না, এর আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক চরম ভবিষ্যৎ অনুমানের রহস্যময় ক্ষমতা। ভবিষ্যৎ বা আসন্ন ঘটনা অনুমানের এক বিশেষ ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কাজ করত তাঁর মধ্যে, যা সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনার অনেকটাই বাইরে ছিল। সবচেয়ে বিস্ময়কর এবং মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিজের জীবনের ঠিক শেষ মুহূর্তের কথাটিও তিনি একেবারে আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন, যা পরবর্তীতে সমস্ত ভক্ত ও পরিবারকে স্তব্ধ করে দেয়।

কিংবদন্তির সুযোগ্য পুত্র তথা বিশিষ্ট গায়ক অমিত কুমার সম্প্রতি বাবার পুরোনো স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তেমনই এক বুক কাঁপানো ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। মৃত্যুর ঠিক কিছুক্ষণ আগে হঠাৎ করেই কিংবদন্তি কিশোর কুমারের মনে এক গভীর আশঙ্কা দানা বাঁধে যে, তিনি এই মুহূর্তেই হৃদরোগে আক্রান্ত হতে চলেছেন। নিজের সেই আশঙ্কার কথা তিনি উপস্থিত পরিজনদের সামনে মুখ ফুটে বলেওছিলেন! কিন্তু চিরকালের সেই রসিক ও মজাদার মানুষটি যে সেদিন এভাবে সত্যি সত্যি চিরকালের মতো চলে যাবেন, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি তাঁর স্ত্রী লীলাদেবী। তিনি ভেবেছিলেন, আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতোই হয়তো বরাবরের মতো আজও তিনি কোনো ঠাট্টা বা রসিকতা করছেন।

কিন্তু সেই চিরপরিচিত হাসিমুখের আড়ালে এবং ঠাট্টার ছলে লুকিয়ে ছিল এক নির্মম অমোঘ সত্যি। কথা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়; এক সম্পূর্ণ সুস্থ ও প্রাণবন্ত মানুষ আচমকা ঢলে পড়েন চিরঘুমের কোলে। কিশোর কুমারের সেই অবিশ্বাস্য ভবিষ্যৎবাণী আজও গভীরভাবে অবাক করে তাঁর পরিবারকে, বিশেষ করে ছেলে অমিত কুমারকে। জীবনের শেষ মুহূর্তেও যে মানুষটি নিয়তির নির্মম বার্তা এমন অদ্ভুতভাবে টের পেয়েছিলেন, তা আজীবন সংগীতপ্রেমীদের মনে এক গভীর রহস্য হয়েই থাকবে।