“মস্তিষ্ক ভুলে গেলেও হৃদয় ভোলেনি…” দাদুকে হারিয়ে শোকে পাথর ‘সাইয়ারা’ খ্যাত অনীত পাড্ডা!

স্মৃতি হাতড়ে বেড়ানো এক অসম লড়াইয়ের অবসান হলো। ‘সাইয়ারা’ সিনেমার সেই আবেগঘন চরিত্রটি যাঁর অনুপ্রেরণায় পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন অভিনেত্রী অনীত পাড্ডা, সেই প্রাণের মানুষটিই পাড়ি দিলেন না-ফেরার দেশে। আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত অনীতের দাদু সোমবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। নিজের জীবনের ‘একমাত্র ভালোবাসা’কে হারানোর বেদনায় মুহ্যমান অভিনেত্রী সামাজিক মাধ্যমে এক অত্যন্ত মর্মস্পর্শী বার্তার মাধ্যমে দাদুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

ইনস্টাগ্রামে দাদুর হাত ধরে থাকা একটি সাদা-কালো ছবি পোস্ট করে অনীত লিখেছেন, “স্মৃতি যখন তোমার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছিল, তখনও তুমি ভালোবাসাকে আঁকড়ে ধরে ছিলে। আমি কিন্তু সেই স্মৃতি আর ভালোবাসা দুটোকেই বয়ে বেড়াব।” অভিনেত্রী জানান, আলঝেইমার রোগ তাঁর দাদুর স্মৃতি কেড়ে নিলেও, সম্পর্কের টান বা হৃদয়ের গভীরতা কমাতে পারেনি। তিনি স্মৃতিচারণ করে লেখেন, দাদু তাঁকে আদর করে ‘মাখন’ বলে ডাকতেন। স্মৃতি হারানো সেই মানুষটির মুখে নিজের ডাকনাম শুনেই শান্তির আশ্রয় খুঁজে পেতেন অভিনেত্রী।

উল্লেখ্য, ‘সাইয়ারা’ ছবিতে একজন আলঝেইমার রোগীর চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব যখন অনীতের কাছে আসে, তিনি দ্বিধা করেননি। কারণ, তাঁর নিজের দাদুই ছিলেন এই মারণ রোগের জীবন্ত উদাহরণ। গত বছর এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী আবেগপ্রবণ হয়ে বলেছিলেন, “আমার দাদু অনেক কিছু ভুলে গেলেও আমাকে ‘হীরাপুত’ বা ‘মাখন’ বলে ডাকেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে মস্তিষ্ক ভুলে গেলেও হৃদয় কখনো ভোলে না।” আজ সেই প্রিয় মানুষটিকেই চিরতরে হারালেন তিনি। দাদুর বলা গল্প এবং তাঁর শেখানো নিঃশর্ত ভালোবাসার পাঠ নিয়েই আগামীর পথে এগোতে চান এই প্রতিভাবান অভিনেত্রী। অনীতের এই ব্যক্তিগত শোকের ছায়া এখন অনুরাগী মহলেও।