নিট বিতর্কে মুখ খুলতেই চরম বেহাল দশা ভূমির! প্রাক্তন শিক্ষিকার বিস্ফোরক অভিযোগে উত্তাল নেটপাড়া

বলিউড অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকরকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। গত কয়েক দিন আগেই শিব মন্দিরে পুজো দেওয়ার একটি ছবিকে কেন্দ্র করে নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। সেই ক্ষোভের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বহুল আলোচিত নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ পরীক্ষার আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে একটি বিশেষ মন্তব্য করে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেন এই তারকা। তবে এবার আর কেবল সাধারণ নেটিজেনদের তোপের মুখেই তাঁকে পড়তে হয়নি, বরং তাঁর এই মন্তব্যের জেরে সোজা নিশানায় চলে এসেছেন তিনি। মুম্বইয়ের এক ফিল্ম স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষিকা সরাসরি তাঁকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করে পুরোনো দিনের কদর্য আচরণের কথা ফাঁস করে দিয়েছেন, যার ফলে গোটা বলিউডপাড়ায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে।

পুরো ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন নিট পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবাদের উত্তাল সময়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কিছু কড়া ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই স্পর্শকাতর প্রসঙ্গটি টেনে এনে ভূমি পেডনেকর তাঁর অফিশিয়াল সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডলে একটি বিশেষ ভিডিয়ো পোস্ট করেন। ওই ভিডিওতে তিনি মতপ্রকাশের শালীনতার ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, গণতান্ত্রিক দেশে নিজেদের দাবি বা প্রতিবাদ জানানোর অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে, কিন্তু তাই বলে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের প্রতি কোনো অবস্থাতেই অসম্মানজনক বা অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। যেকোনো সংবেদনশীল বিষয়েই মানুষের সর্বদা সংযত এবং দায়িত্বশীল ভাষার মাধ্যমে কথা বলা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভূমির এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। নেটিজেনদের একটি বড় অংশ প্রশ্ন তোলেন যে, পরীক্ষার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ কিংবা কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ার মতো ঘটনা ঘটলেও অভিনেত্রী কেন সেই প্রসঙ্গে একটি টু শব্দও খরচ করলেন না?

এই বিতর্কের জল আরও দূর গড়ায় যখন মুম্বইয়ের একটি ফিল্ম স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষিকা এবং বর্তমানে আধ্যাত্মিক সাইকোথেরাপিস্ট হিসেবে কর্মরত শ্রুতি দেসাই আসরে নামেন। ইনস্টাগ্রামে সরাসরি ভূমিকে ট্যাগ করে অত্যন্ত ক্ষোভের সুরে তিনি একটি দীর্ঘ মন্তব্য লেখেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, মুম্বইয়ের ওই ফিল্ম স্কুলে অল্প সময়ের জন্য তিনি ভূমির শিক্ষিকা ছিলেন এবং অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, শিক্ষিকা হিসেবে তাঁর সঙ্গে ভূমির সেই সময়ের আচরণ কতটা অসম্মানজনক ও অহংকারী ছিল, তা আজও তাঁর স্পষ্ট মনে আছে। ক্ষুব্ধ শিক্ষিকা আরও লেখেন যে, আজ সোশাল মিডিয়ায় দাঁড়িয়ে সম্মান, শিষ্টাচার আর দায়িত্ববোধ নিয়ে অভিনেত্রীর এমন লম্বা লম্বা নীতিবাক্য দেখে তিনি যারপরনাই অবাক হয়েছেন। মাঝের এই কটা বছরে ভূমির চিন্তাভাবনা আর অহংকার ঠিক কীভাবে এত বদলে গেল, তা একটু ব্যাখ্যা করার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন তিনি। শিক্ষিকার এমন প্রকাশ্য কটাক্ষের পর থেকেই ইন্টারনেট জগৎ কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদল নেটিজেনের মতে, অতীত ভুলের শিক্ষা দিতে শিক্ষিকা অত্যন্ত মোক্ষম ও সঠিক জবাব দিয়েছেন। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষের যুক্তি, শৈশব বা কৈশোরের কোনো পুরোনো আচরণকে বহু বছর পর প্রকাশ্যে এনে কাউকে এভাবে অপমান করা কোনোমতেই কাম্য নয়। যদিও এই ধুন্ধুমার বিতর্কের মুখেও ভূমি পেডনেকর নিজে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি বা কোনো সাফাই দেননি।