প্রধানমন্ত্রী মোদীকে নিয়ে কুরুচিকর পোস্টার! শ্রীলেখার গ্রেফতারির দাবিতে ফুঁসছে বিজেপি, আইনি জালে অভিনেত্রী

ধর্মতলার রাজপথে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে যোগ দিয়ে চরম আইনি বিপাকে পড়েছেন টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। প্রতিবাদ মিছিলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি কুরুচিকর ও বিকৃত ছবি সম্বলিত পোস্টার তাঁর হাতে দেখা যাওয়ার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র ঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছে এবং বাংলার শাসক শিবির থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ এবং বিজেপির পক্ষ থেকে অভিনেত্রীর কঠোর শাস্তির দাবি তোলা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে একাধিক থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, যা অভিনেত্রীর পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে বড়সড় সংকট ডেকে এনেছে।

বিতর্কের সূত্রপাত কীভাবে?
আরজি কর আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অতীতে একাধিকবার মুখ খুলে বিতর্ক তৈরি করেছেন শ্রীলেখা মিত্র। প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত এই অভিনেত্রী বিভিন্ন সময় নানা ইস্যুতেই সরব হয়েছেন। তবে এবারের বিতর্ক আগের সমস্ত সীমানাকে ছাড়িয়ে গেছে। ধর্মতলায় ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে তিনি যে পোস্টারটি হাতে তুলে নিয়েছিলেন, তাতে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অত্যন্ত অবমাননাকর এবং আপত্তিকর একটি ছবি ছিল। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক এবং বিশিষ্ট শিল্পী হয়ে কীভাবে তিনি এমন কুরুচিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদে সামিল হলেন, তা নিয়ে এখন তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

কী ছিল সেই পোস্টারে এবং কীভাবে ছড়াল বিতর্ক?
প্রতিবাদ সভার একটি ছবি মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। সেই ছবিতে স্পষ্ট দেখা যায়, শ্রীলেখা মিত্রের হাতে যে পোস্টারটি রয়েছে তাতে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর অঙ্গভঙ্গি বা ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ছবিটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিজেপি নেতৃত্ব এবং কর্মী-সমর্থকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। ক্ষুব্ধ জনতা এবং বিজেপি নেতাকর্মীরা কেবল অনলাইনে প্রতিবাদের ঝড় তোলেনি, বহু মানুষ অভিনেত্রীর শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হন এবং একাংশ তার বাসভবনের সামনে গিয়েও তীব্র বিক্ষোভ দেখান। সুশীল সমাজের একটি বড় অংশের মতে, সমাজের একজন পরিচিত মুখ এবং অভিনেত্রী হিসেবে শ্রীলেখার এই ধরনের আচরণ যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে।

একাধিক থানায় অভিযোগ ও আইনি পদক্ষেপ
প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করা এবং তা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করার অপরাধে শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে শান্তিপুর থানাসহ রাজ্যের একাধিক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শান্তিপুরের এক অধ্যাপক এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে থানায় এফআইআর করেছেন। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের একজন সাংবিধানিক প্রধানকে নিয়ে এমন নোংরা মানসিকতার প্রদর্শন কেবল অনৈতিকই নয়, বরং আইনের চোখেও দণ্ডনীয় অপরাধ। একের পর এক থানায় মামলা দায়ের হওয়ায় অভিনেত্রী এখন আইনি জালে পুরোপুরি বন্দি।

অভিনেত্রীর সাফাই ও সমালোচনার ঝড়
চারদিক থেকে ধেয়ে আসা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে নিজের সাফাই পেশ করেছেন শ্রীলেখা মিত্র। তিনি দাবি করেছেন যে ওই পোস্টারটি তিনি বাড়ি থেকে নিয়ে যাননি, বরং আন্দোলনরত ছাত্রদের কাছ থেকেই সেটি তাঁর হাতে আসে। অর্থাৎ, এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে তিনি সম্পূর্ণ দায়টুকু ছাত্রদের ঘাড়েই চাপিয়ে দিতে চেয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে তাঁর এই যুক্তি খুব একটা ধোপে টিকছে না। সচেতন নাগরিকদের একাংশের মতে, কেবল পোস্টার হাতে নেওয়া নয়, পরবর্তীতে সেই ছবি তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলেও শেয়ার করেছিলেন, যা তাঁর সুচিন্তিত মানসিকতারই পরিচয় দেয়। ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পরিবর্তে তাঁর এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ মনোভাব এবং অতিবামপন্থী রাজনীতির অন্ধ সমর্থন সমাজকে আরও বেশি অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সব মিলিয়ে, শ্রীলেখা মিত্রের এই বিতর্কিত পদক্ষেপ তাঁকে এক গভীর আইনি ও সামাজিক সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty