‘সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে…’: বিরোধীদের হাঙ্গামার মাঝেই নতুন অ্যান্টি-চিটিং বিল নিয়ে মুখ খুললেন সায়নী ঘোষ

শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লাগাতার দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা চিরতরে নির্মূল করতে আজ সোমবার সংসদের উচ্চপর্যায়ে পেশ হতে চলেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর সংশোধনী বিল—‘পাবলিক এগ্জামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আজ ঠিক বেলা ১২টায় লোকসভায় এই বহু প্রতীক্ষিত বিলটি পেশ করবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া নিট (NEET) কেলেঙ্কারি এবং তার জেরে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন ছাত্র অসন্তোষের আবহে এই বিলটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত এই নতুন সংশোধনী বিলে অপরাধীদের দমনে অত্যন্ত কঠোর আইনি পদক্ষেপের সংস্থান রাখা হয়েছে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এক নতুন সুরক্ষার চাদরে মুড়ে দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

বিশেষ সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, নতুন এই সংশোধনী বিলে প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি এবং সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত চক্রগুলির জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অপরাধীদের আর্থিক দিক থেকেও কোণঠাসা করতে বিলে সরাসরি ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ভারী জরিমানার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের স্পর্শকাতর ও গুরুতর অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের মাধ্যমে বিচার সম্পন্ন করার বিশেষ সংস্থানও রাখা হচ্ছে এই বিলে। আইনসম্মত প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে মাত্র ৩ মাসের মধ্যে মামলার সমস্ত শুনানি ও নিষ্পত্তি করার কঠোর প্রস্তাবনাও এই সংশোধনীতে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে অপরাধীরা সহজে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ না পায়।

এদিকে, এই বিল পেশের দিনেই সংসদের উভয় কক্ষে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানোর প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। নিটকাণ্ড এবং সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থার অচলাবস্থা নিয়ে সোমবার লোকসভা ও রাজ্যসভায় আলোচনার দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক বিরোধী দল মুলতুবি প্রস্তাব জমা দিয়েছে। বিরোধীদের হাঙ্গামা ও প্রতিবাদের এই আবহেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন এনসিপিআই সাংসদ সায়নী ঘোষ। কলকাতার যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের এই সাংসদ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “শুরু থেকেই আমরা এই সংবেদনশীল বিষয়টিতে খোলামেলা আলোচনা করতে চেয়েছিলাম। অতীতে বিরোধী শিবির বিভিন্ন কারণে সহযোগিতায় পিছপা হলেও, আমরা আন্তরিকভাবে আশা করব যে এবার তারা গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেবে। প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে যে সমস্ত দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং যেভাবে দেশের তরুণ সমাজ ও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। একজন দায়িত্বশীল সাংসদ হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে আশা করব যে সংসদের অন্দরে এই বিল নিয়ে কোনো রাজনৈতিক তরজা নয়, বরং একটি সুস্থ ও ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।” সব মিলিয়ে, আজকের এই সংসদীয় অধিবেশন দেশের শিক্ষা নীতি ও ভবিষ্যতের রূপরেখা নির্ধারণে এক ঐতিহাসিক মোড় নিতে চলেছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty