জি বাংলায় আসছে জোড়া ধামাকা! নতুন দুই মেগা সিরিয়ালের শুরুতেই কি তবে কোপ পড়বে পুরনো হিট ধারাবাহিকে?

টেলিভিশন দুনিয়ায় টিআরপির লড়াইয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এবার একঝাঁক নতুন চমক নিয়ে হাজির হচ্ছে জনপ্রিয় বিনোদন চ্যানেল জি বাংলা। খুব শীঘ্রই চ্যানেলের পর্দায় আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত দুটি নতুন মেগা ধারাবাহিক—’বাঘিনী’ এবং ‘সতীপীঠ কালীঘাট’। ইতিমধ্যে এই দুই মেগা প্রজেক্টের প্রোমো দর্শকদের নজর কেড়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা। যদিও চ্যানেল কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবুও বিশ্বস্ত সূত্রের খবর অনুযায়ী চলতি মাসের শেষ থেকেই অর্থাৎ আগামী ২৪ আগস্ট থেকে একসঙ্গে শুরু হতে পারে এই দুই নতুন ধারাবাহিকের পথচলা। নতুন এই দুই মেগার সম্প্রচারের সময় নিয়ে ইতিমধ্যেই টলিউড পাড়ায় জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, ‘বাঘিনী’ ধারাবাহিকটি রাত ৯টার স্লটে এবং ‘সতীপীঠ কালীঘাট’ রাত সাড়ে ৯টার স্লটে সম্প্রচারিত হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সময়ের জন্য দর্শকদের চ্যানেল কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হবে।

এদিকে এই দুই নতুন ধারাবাহিক আসার খবর চাউর হতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বর্তমানের কিছু জনপ্রিয় মেগার ভবিষ্যৎ নিয়ে। এই মুহূর্তে জি বাংলায় রাত পৌনে নয়টায় ‘জোয়ার ভাঁটা’ এবং রাত সাড়ে নয়টায় ‘কনে দেখা আলো’ সম্প্রচারিত হয়, যার টিআরপি তুলনামূলকভাবে কিছুটা নিম্নমুখী। নতুন দুই ধারাবাহিক এলে কি তবে এই মেগাগুলি বন্ধ হয়ে যাবে, নাকি তাদের সম্প্রচারের সময় পরিবর্তন করা হবে, তা নিয়ে দর্শকদের মনে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এছাড়া ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে আরও একটি সম্ভাবনা জোরালোভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে। বর্তমানে ‘পরিণীতা’, ‘জোয়ার ভাঁটা’ এবং ‘কনে দেখা আলো’—এই তিনটি ধারাবাহিকই দীর্ঘ সময় ধরে অর্থাৎ ৪৫ মিনিট করে সম্প্রচারিত হয়ে আসছে। চ্যানেল কর্তৃপক্ষ যদি এই তিনটি মেগার সম্প্রচার সময় কমিয়ে মাত্র ৩০ মিনিট করে দেয়, তবে সহজেই নতুন দুই ধারাবাহিককে প্রাইম টাইমে জায়গা করে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

নতুন দুই ধারাবাহিকের গল্প এবং কাস্টিং নিয়েও দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনার শেষ নেই। ‘সতীপীঠ কালীঘাট’ মেগাটিতে মূলত কালীঘাটের ঐতিহাসিক পটভূমি, মন্দির প্রতিষ্ঠার পেছনের পৌরাণিক কাহিনী এবং এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা নানা অজানা ইতিহাস অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে ফুটিয়ে তোলা হবে। অন্যদিকে, ‘বাঘিনী’ ধারাবাহিকের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং যথেষ্ট সংগ্রামী। এখানে এক সিঙ্গল মাদার বা একা মায়ের কঠিন লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরা হবে, যাকে স্বামী ফেলে চলে যাওয়ার পর সন্তানকে মানুষ করার জন্য সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে মধু সংগ্রহ করতে হয় এবং বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে লড়াই করে প্রতিদিন জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে হয়। এই মেগাটির প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছে নামী প্রোডাকশন হাউস ‘টেন্ট সিনেমা’, এবং এর মাধ্যমে মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ছোটপর্দায় অভিষেক ঘটতে চলেছে নবাগতা সম্পিতা প্রামাণিকের। সবমিলিয়ে, নতুন এই দুই ধারাবাহিকের হাত ধরে জি বাংলার প্রাইম টাইম স্লটে এক বিরাট পরিবর্তন আসার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।