প্রয়াত সঙ্গীত আইকন জুবিন গর্গকে নিয়ে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল অসম সরকার। গায়কের চিতাভস্ম (অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ছাই) এখন থেকে সাধারণ জনগণ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির মধ্যে বিতরণ করা হবে। ভারতে সম্ভবত এমন ঘটনা এই প্রথম ঘটল। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মধ্যে তা বিতরণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার নগাঁও জেলায় পৌঁছয় গায়কের চিতাভস্ম, যেখানে অসংখ্য প্রদীপ জ্বালিয়ে তাঁকে স্মরণ করেন স্থানীয়রা এবং প্রদীপের শিখায় লেখা হয় ‘জুবিন গার্গ অমর হউক’।
অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে চিতাভস্ম বিতরণ
অসমীয়া সঙ্গীত শিল্পে অমর কিংবদন্তি হয়ে ওঠা এই শিল্পীর অকালমৃত্যুর পর জনসাধারণের ব্যাপক চাহিদার প্রেক্ষিতে সরকার এই অনন্য পদক্ষেপ নিয়েছে। এই বিতরণ ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য সরকার শীঘ্রই একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করবে।
রাজ্য সরকারের মুখপাত্র ও শিক্ষামন্ত্রী রনোজ পেগু জানিয়েছেন:
সরবরাহ প্রক্রিয়া: সংস্কৃতি বিষয়ক বিভাগের মাধ্যমে একটি সহজ অনলাইন পোর্টাল চালু করা হবে।
আবেদন: অসম জুড়ে সাংস্কৃতিক সংগঠন, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিরা এই পোর্টালের মাধ্যমে চিতাভস্মের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন।
লক্ষ্য: এই পদ্ধতির লক্ষ্য হল সমস্ত অঞ্চলে সমানভাবে গায়কের চিতাভস্ম বিতরণ করা এবং তা যেন উপযুক্ত ও সম্মানিত ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছয়।
সংস্কৃতি বিভাগের একজন সচিব পর্যায়ের আধিকারিক জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যেই অনলাইন পোর্টালটি প্রস্তুত হয়ে যাবে।
অসম জুড়ে জনতা-জনার্দনের আবেগ
গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে নৌকা ভ্রমণে গিয়ে সাঁতার কাটার সময় জুবিনের মৃত্যু হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটি শহরের কাছে কামারকুচিতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
গায়কের প্রতি মানুষের আবেগ এতটাই তীব্র ছিল যে, মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) তাঁর মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে অসমে এসে পৌঁছনোর পর বিমানবন্দর থেকে বাসভবন পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সাড়ে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলা কমিশনারের মতে, সেদিন গুয়াহাটিতে আনুমানিক ১৫ লক্ষ মানুষ জুবিনের শেষযাত্রায় সামিল হয়েছিলেন।
জনসাধারণের এই তীব্র শোকের আবহে সরকার তাঁর পরিবারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিতাভস্ম গ্রহণ করে এবং এই অনন্য বিতরণের ঘোষণা করে।





