বলিউডের ‘বউদি’ নন, তিনি আজও মনেপ্রাণে কলকাতার মেয়ে। অভিনয়ের আঙিনায় দীর্ঘ ৩০ বছরের সফল পথচলা পূর্ণ করার মুহূর্তে এক বিরল সম্মানে ভূষিত হলেন রানি মুখোপাধ্যায়। বুধবার রাজভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ নাগরিক সম্মান ‘গভর্নস অ্যাওয়ার্ড—বন্দে মাতরম’ গ্রহণ করলেন তিনি। গত বছর ‘মিসেস চ্যাটার্জী ভার্সেস নরওয়ে’ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার জেতার পর, রানির সাফল্যের মুকুটে এটি একটি অত্যন্ত দামি পালক হিসেবে যুক্ত হল।
পুরস্কার গ্রহণের সময় মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অভিনেত্রী। তিনি বলেন, “মুম্বইয়ে থাকলেও আমার শিকড় এই বাংলার মাটিতেই। এই সম্মান পাওয়া যেন নিজের দেশে প্রত্যাবর্তনের মতো অনুভূতি। এটা আমার অস্তিত্বের উষ্ণ আলিঙ্গন।” রানি আরও যোগ করেন যে, বাঙালি সংস্কৃতি তাঁকে শিখিয়েছে কীভাবে চিৎকার না করেও নিজের কথা জোরালোভাবে প্রকাশ করা যায়। তাঁর বাবা-মা এবং বাঙালি সংস্কৃতির মূল্যবোধই তাঁকে আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে শিখিয়েছে।
বাংলার ‘বিয়ের ফুল’ থেকে বলিউডের ‘ব্ল্যাক’ ১৯৯৬ সালে বাংলা ছবি ‘বিয়ের ফুল’-এর হাত ধরে তাঁর কেরিয়ার শুরু হয়েছিল। তারপর একে একে ‘ব্ল্যাক’, ‘মর্দানি’ বা ‘হিচকি’— গত তিন দশকে রানি প্রমাণ করেছেন তাঁর বহুমুখিতা। ইন্ডাস্ট্রিতে ৩০ বছর পার করার এই বিশেষ মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই স্বীকৃতি কেবল রানির জন্য নয়, তাঁর অগণিত অনুরাগীদের জন্যও গর্বের। বাংলা এবং বলিউডের এই অবিচ্ছেদ্য সেতুবন্ধনে রানি মুখোপাধ্যায় আজও এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারা।





