স্কুল ছুটির পর জনগণনা নয় কেন? শিক্ষকদের বড় স্বস্তি দিয়ে আদালতে বড় নির্দেশ!

জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও জটিলতা দূর করতে এবার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার মামলার শুনানিতে আদালত অত্যন্ত স্পষ্ট পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে, শিক্ষক সমাজকে জনকল্যাণমূলক বা জনগণনার কাজে যুক্ত করার আগে রাজ্য সরকারের আরও অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত ও সহানুভূতিশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।
প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছিল যে, স্কুল শিক্ষকদের নিয়মিত শিক্ষাদানের সময় শেষ হওয়ার ঠিক পরেই জনগণনার কাজে যোগ দিতে হবে। সরকারি এই নির্দেশকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও অযৌক্তিক বলে দাবি করে শিক্ষক সংগঠনগুলি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। শিক্ষক সংগঠনের করা এই সমস্ত মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুনানি আগামী ১৮ আগস্ট ধার্য করেছে আদালত। তার আগে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্দেশ দিয়েছেন যে, আবেদনকারী শিক্ষক সংগঠনগুলিকে অবিলম্বে অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল ধীরাজ ত্রিবেদীর কাছে শিক্ষকদের বর্তমান অবস্থান সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য জমা দিতে হবে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা কোথায় বসবাস করেন, স্কুল থেকে তাঁদের বাসস্থানের দূরত্ব ঠিক কতখানি এবং নির্ধারিত জনগণনার কাজের স্থানটি তাঁদের স্কুল ও বাসস্থান থেকে কতটা দূরে—এই সমস্ত বিষয়ের একটি সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত বিবরণ চাওয়া হয়েছে। এই সমস্ত তথ্য হাতে পাওয়ার পর অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র এবং শিক্ষা দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবেন। সেখান থেকেই এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা কাটানোর একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান সূত্র বের করার চেষ্টা করা হবে।
মামলার শুনানিকালে শিক্ষক সংগঠনের আইনজীবীরা জোরালো সওয়াল করে জানান যে, জনগণনার কাজে যোগ দেওয়ার সরকারি নির্দেশ জারির আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বাসস্থান, কর্মস্থল এবং কাজের জায়গার পারস্পরিক দূরত্বের বিষয়টি একেবারেই বিবেচনা করা হয়নি। অনেক শিক্ষককেই প্রতিদিন স্কুল যাতায়াতের জন্য ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে হয়। আবার কারোর ক্ষেত্রে স্কুল ও বাসস্থানের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এমতাবস্থায় স্কুলের দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর দায়িত্ব পালনের পর অতিরিক্ত সময়ে তাঁদের পক্ষে জনগণনার কাজ চালিয়ে যাওয়া চরম দুরূহ এবং মানসিকভাবে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
অল বেঙ্গল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মামলায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, জনগণনার কাজে শিক্ষকদের নিজস্ব স্মার্টফোন ও ব্যক্তিগত ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করতে বাধ্য করা হচ্ছে। পাশাপাশি, স্কুলের নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পরও তাঁদের ফের জোর করে এই কাজে নামানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার রাজ্যে জনগণনার কাজ শুরু করার অংশ হিসেবে স্কুল শিক্ষকদের ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিলেও, পঠনপাঠন অক্ষুণ্ণ রেখে শিক্ষকরা ঠিক কখন এই বাড়তি কাজ সামলাবেন, তা নিয়ে তীব্র জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর আগে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে মর্নিং স্কুলের প্রস্তাব দেওয়া হলেও শিক্ষা দফতর তাতে সায় দেয়নি। এখন আদালতের মধ্যস্থতায় এই শিক্ষক সমস্যার স্থায়ী ও সন্তোষজনক সমাধান মিলবে কি না, সেটাই দেখার।