‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’! বাংলার কিংবদন্তি অনন্ত সিংহের চরিত্রে নিজেকে কীভাবে সম্পূর্ণ বদলে ফেললেন জিৎ?

আসন্ন মেগা বাজেটের বহুচর্চিত সিনেমা ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তির দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই সিনেমা প্রেমী ও অনুরাগীদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ হু হু করে চড়ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বড়পর্দায় সুপারস্টার জিৎকে এক সম্পূর্ণ নতুন এবং অচেনা অবতারে দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন দর্শকরা। ছবির টিজার ও গান প্রকাশ্যে আসার পর এবার নির্মাতারা প্রকাশ করেছেন অভিনেতার মোট নয়টি অত্যন্ত চমকপ্রদ ও তাক লাগানো লুক। এই নয়টি ভিন্ন অবতার দর্শকদের সামনে তুলে ধরছে টলিউডের এই মেগাস্টারের অভিনয় জীবনের অন্যতম কঠিন, চ্যালেঞ্জিং এবং রূপান্তরমূলক চরিত্রাভিনয়ের এক অনন্য ঝলক। বাংলার ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি বিপ্লবী অনন্ত সিংহের অসাধারণ জীবনকাহিনি অবলম্বনে তৈরি এই সিনেমায় জিৎকে দেখা যাবে ন’টা সম্পূর্ণ ভিন্ন শারীরিক রূপ ও বয়সের ক্যানভাসে, যা পর্দায় ইতিহাসকে জীবন্ত করে তুলেছে।
ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে আসা এই চরিত্রটিকে পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার নেপথ্যে রয়েছে মাসকয়েক ধরে চলা সুদীর্ঘ গবেষণা ও অক্লান্ত পরিশ্রম। অনন্ত সিংহকে কেউ মনে করেন নির্ভীক স্বাধীনতা সংগ্রামী, আবার কারও কাছে তিনি ছিলেন এক ভয়ংকর ডাকাত। এক অগ্নিমুখর বিপ্লবী থেকে শুরু করে একাধিক পরিচয়ে আত্মগোপন করে থাকা পলাতক মানুষ—তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়কে সেলুলয়েডে ফুটিয়ে তুলতেই তৈরি করা হয়েছে এই নয়টি স্বতন্ত্র লুক। প্রতিটি রূপ অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে নির্মিত হয়েছে চরিত্রটির আবেগ, সময় ও ঐতিহাসিক সত্যতাকে বজায় রেখে। এই অসাধারণ রূপান্তরের কারিগর হলেন ছবির মেকআপ বিভাগের প্রধান সোমনাথ কুণ্ডু। পরিচালক ও সৃজনশীল দলের সঙ্গে মাসের পর মাস গবেষণা করে তিনি এই ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্ক লুকগুলো তৈরি করেছেন। সোমনাথ কুণ্ডু জানিয়েছেন যে, এই ছবির সঙ্গে যুক্ত হওয়া তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম কঠিন ও সবচেয়ে তৃপ্তিদায়ক জার্নি।
জিতের এই নয়টি অবতারের প্রকাশ ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যম ও সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ছবির পরিচালক পথিকৃৎ বসু জানিয়েছেন যে, অনন্ত সিংহের মতো জটিল ও বহুমুখী চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে একটি মাত্র রূপ বা মুখ কখনওই যথেষ্ট হতে পারত না। পরিচালক আরও স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান ও অতীতের নানা সময়রেখা অতিক্রম করে এই ছবি ধীরে ধীরে অনন্তর অতীতের পর্দা ফাঁস করে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে একনিষ্ঠ স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে লড়াই করা অনন্তবাবু স্বাধীনতার পর কীভাবে দুর্নীতি ও আদর্শের অবক্ষয় দেখে ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছিলেন, তা এই ছবির মূল উপজীব্য। ছবিতে জিতের পাশাপাশি টোটা রায়চৌধুরী, চন্দন সেন, কৌশিক সেন, রজতাভ দত্ত এবং প্রিয়াঙ্কা সরকারের মতো তারকারা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আগামী ১৪ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলা এই ছবি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক ছুঁতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।