অকাল প্রয়াণ নাকি ষড়যন্ত্র? সিঙ্গাপুরে জুবিন মৃত্যুতে সিবিআই তদন্তের দাবি বিরোধীদের, কেন উঠছে প্ল্যানমাফিকের অভিযোগ?

গায়ক জুবিন গর্গের সিঙ্গাপুরে জলে ডুবে যাওয়ার ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ক্রমশ রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। সিঙ্গাপুর হাই কমিশন থেকে গায়কের ডেথ সার্টিফিকেট এলেও, দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হয়েছে এবং সেই রিপোর্ট এখনও অপ্রকাশিত। এই পরিস্থিতিতে জুবিনের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে SIT গঠন
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মঙ্গলবার ঘোষণা করেন যে ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে গায়কের অকাল মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের জন্য SIT গঠন করা হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “জুবিন গর্গের অকাল প্রয়াণে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।”

তিনি অসমের ডিজিপি, এডিজিপি, সিআইডি-র উচ্চপদস্থ কর্তা এবং চিফ সেক্রেটারির সঙ্গে বৈঠক করে ডিজিপিকে নির্দেশ দিয়েছেন অসমের সেরা পুলিশ অফিসারদের নিয়ে SIT গঠন করতে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, গায়কের ভিসেরা স্যাম্পেল দিল্লির সেন্ট্রাল ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে এবং SIT-কে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে এই মৃত্যু তদন্তের জন্য।

কেন সিবিআই তদন্তের দাবি?
অসমের ‘হার্টথ্রব’ জুবিনের আকস্মিক মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না অসমবাসী। অন্যদিকে, জনপ্রিয় শিল্পীর মৃত্যুতে বিরোধীরা সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন।

বিরোধী দলনেতা দেবব্রত সাইকিয়া রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে চিঠি লিখে সিবিআই তদন্তের দাবি জানান। তাঁর সন্দেহ, পুরো বিষয়টি প্ল্যানমাফিক করা হয়েছে। সাইকিয়া বলেন, “গর্গকে বিশেষভাবে সীমিত সঙ্গী নিয়ে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যেটা স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে না। সীমিত লোক নিয়ে যাওয়ার মানে জুবিনের নিরাপত্তা টিমে সদস্য সংখ্যা কম হওয়া, সকলের নজর থেকে দূরে রাখা— এই কারণগুলোই একাধিক সন্দেহ ও প্রশ্ন তুলছে।”

অসম জাতীয় পরিষদ (এজেপি) এবং রায়জোর দল (আরডি)-এর মতো অন্যান্য বিরোধী দলগুলিও সিবিআই তদন্ত চেয়েছে। পাশাপাশি, আদালতের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবিতে গুয়াহাটি হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়েছে।

আয়োজকদের নিয়েও বিতর্ক
জুবিনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে— কেন জুবিন নাকি সিঙ্গাপুরে নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে চাননি, অথচ তাঁকে জোর করা হয়েছিল?

বিরোধী দলনেতা দেবব্রত সাইকিয়া নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালের আয়োজক শ্যামাকানু মহন্তের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। অসম সরকার ইতিমধ্যেই মহন্ত ও তাঁর প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। উল্লেখ্য, এই মহন্ত হলেন প্রাক্তন ডিজিপি ভাস্কর জ্যোতি মহন্তের ছোট ভাই।

এই পরিস্থিতিতে জুবিনের মৃত্যু তদন্তের গতিপথ এখন কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে অসম।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy