‘আমার জুটি চলে গেল’, হেমন্তর শেষযাত্রায় শোকবিহ্বল সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, শ্রদ্ধা জানালেন সত্যজিৎ-সৌমিত্র থেকে জ্যোতি বসু

১৯৮৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। মঙ্গলবার রাত সওয়া এগারোটা নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুরলোকে চলে গেলেন (Passed Away) কিংবদন্তি শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। কলকাতা থেকে ওইদিন সন্ধের ফ্লাইটে তাঁর মুম্বই পৌঁছনোর কথা ছিল, যেখানে তিনি অন্যবারের মতো সেই বছরের পুজো কাটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু বম্বেতে তাঁর গুণমুগ্ধ ও বন্ধুরা আর কোনোদিনও প্রিয় হেমন্তকে দেখতে পেলেন না।

শোকবিহ্বল বম্বে ও বাংলা
হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের চলে যাওয়া যেন বঙ্গজীবনে শরতেই শীত এনে দিয়েছিল। এই মৃত্যুসংবাদে শোকের ছায়া নেমে আসে বাংলা ও মুম্বইয়ের শিল্পী মহলে।

হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায় বম্বে থেকে জানান, “হেমন্তর মৃত্যুসংবাদ শুনে ঘুমের ওষুধ খেয়েও চার ঘন্টায় আমার ঘুম আসেনি।”

কোকিলকণ্ঠী লতা মঙ্গেশকর ভোর হতেই এই দুঃসংবাদ পেয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন। লতা যখন খবরটি পেলেন, তখন তিনি পুজোর ঘরে ছিলেন এবং ফোনও ধরতে পারেননি।

পুত্রবধূ অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় (ছেলে জয়ন্তের সঙ্গে বম্বেতে ছিলেন) খবর পেয়েই কলকাতা ছুটে আসেন এবং অঝোরে কেঁদে চলেন। স্ত্রী বেলা মুখোপাধ্যায় মাঝে মাঝেই আর্তনাদ করে উঠছিলেন “ওগো কথা বলো, ওগো ফিরে এসো”।

হেমন্তের ফ্ল্যাটে শিল্পী ও সাধারণ মানুষের ভিড়
দক্ষিণ কলকাতার শরৎ চ্যাটার্জী রোডের হেমন্তর ফ্ল্যাটে তখন বাংলার নামীদামী শিল্পী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। কালো মাথার ভিড়ে ভরে গিয়েছিল রাস্তা।

শিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এসে হেমন্তকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, “আমার জুটি চলে গেল”।

হেমন্তকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন মৃণাল সেন, সত্যজিৎ রায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, তরুণ মজুমদার।

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে এসেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। এছাড়া সন্ধ্যা রায়, মৈত্রেয়ী দেবী, সবিতাব্রত দত্ত, রবি ঘোষ, রামকুমার চট্টোপাধ্যায়, সুচিত্রা মিত্র কেউই বাদ ছিলেন না।

খুব সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে আসা এই শিল্পীর মৃত্যুসংবাদে সারা বাংলাদেশেও নেমে এসেছিল গভীর শোকের ছায়া। ডিসেম্বরে ফের বাংলাদেশে আসার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন তিনি, যা আর পূরণ হলো না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy