টলিউডের প্রখ্যাত পরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক প্রয়াণ শোকের ছায়া ফেলেছে চলচ্চিত্র জগতে। বুধবার দুপুরে গড়িয়াহাটের বাসভবনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু সংবাদে স্তব্ধ অনুরাগীরা। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে দানা বেঁধেছে রহস্য। এটি আত্মহত্যা না কি নিছক দুর্ঘটনা, তা নিশ্চিত করতে আজ ঘটনাস্থলে পৌঁছাচ্ছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা।
প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিচালকের শরীরে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথার বাঁদিকে গভীর ক্ষত এবং খুলি ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি শরীরের বামদিকের পাঁজর, কোমর ও পায়ে গুরুতর আঘাতের প্রমাণ মিলেছে। চিকিৎসকদের মতে, উপর থেকে পতনের কারণেই এই অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়েছে। ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধার (হেমোথোরাক্স) মতো জটিল সমস্যাও শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে এটি খতিয়ে দেখা হবে যে, দেহটি ঠিক কোন ভঙ্গিমায় পড়েছিল, যা থেকে পতনের কারণ (স্বেচ্ছায় নাকি দুর্ঘটনাবশত) স্পষ্ট হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন অনীক দত্ত। তবে মানসিক কোনো অস্থিরতা ছিল কি না, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যরাও কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দিতে পারছেন না। পরিচালকের স্ত্রী ও ঘনিষ্ঠ মহল এখন শোকস্তব্ধ। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরিচালক অনীক দত্তের শেষকৃত্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁর কন্যা ঐশী দত্ত। সুইডেন থেকে তিনি ফেরার পরই শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। যদি ঐশী আজ রাতে পৌঁছাতে পারেন, তবেই সম্ভবত আজ শেষকৃত্য হবে, অন্যথায় আগামীকাল এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, শেষবারের মতো পরিচালকের মরদেহ নন্দন প্রাঙ্গণে আনা হবে, যাতে টলিউডের সহকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। এরপর কেওড়াতলা মহাশ্মশানে সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য। পরিচালকের স্ত্রী সংবাদমাধ্যমের সামনে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পুলিশি তদন্ত এবং ফরেন্সিক রিপোর্টের ওপরই এখন নির্ভর করছে অনীক দত্তের মৃত্যুর প্রকৃত সত্য।





