ভোটের আগেই প্রকাণ্ড জালিয়াতি! ১০ হাজার নাম নিয়ে কারচুপি ধরা পড়তেই নির্বাচন কমিশনের ঐতিহাসিক অ্যাকশন!

উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে পিলভিট বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকা নিয়ে চাঞ্চল্যকর কারচুপির ঘটনা সামনে আসতেই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল ভারত নির্বাচন কমিশন। প্রায় ১০,৪৭০ জন ভোটারের নাম অবৈধভাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ও অদলবদল করার অভিযোগ প্রমাণিত হতেই দুই ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে (ERO) অবিলম্বে বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করেছে কমিশন। কমিশনের এই নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপে ভোটমুখী উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল পড়ে গেছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে উত্তর প্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) এবং রাজ্য সরকারের মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে ইআরও ময়াঙ্ক গোস্বামী এবং হেমন্ত চৌধুরীকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন করে কমিশনের কাছে পাঠানোর নির্দেশ জারি করা হয়েছে। নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের পূর্ব অনুমতি ছাড়া এই দুই অফিসারকে কোনোভাবেই চাকরিতে পুনর্বহাল করা যাবে না।

শুধু বিভাগীয় পদক্ষেপই নয়, অভিযুক্ত দুই অফিসার এবং অনিল কুমার নামে ভোটার রেজিস্ট্রেশন সেন্টারের এক কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশে এফআইআর-এ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৮ নম্বর ধারা (কারও ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে সরকারি কর্মচারীর আইন অমান্য করা) যুক্ত করা হয়েছে। আদালতে এই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোরভাবে পরিচালনার নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।

এছাড়াও পিলভিট জেলার ৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেরই সমগ্র ভোটার তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা নির্বাচন আধিকারিককে (DEO)। পাশাপাশি ফর্ম ৬, ফর্ম ৭ এবং ফর্ম ৮-এর মাধ্যমে যেসব নাম যুক্ত, বাদ বা সংশোধন করা হয়েছে, সেগুলি বিশেষ তদন্তের আওতায় আনার জন্য পুরো রাজ্যের সমস্ত ইআরও-দের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।