জেল থেকে বের হতেই ফের গ্রেফতার আজম খান! সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছাল ইডির মেগা মামলার রুদ্ধশ্বাস জলঘোলা!

সমাজবাদী পার্টির শীর্ষনেতা তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী আজম খানের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) নয়া অর্থ পাচার মামলা ও গ্রেফতারির বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনের জরুরি শুনানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ সোমবার জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন তাত্ক্ষণিকভাবে মঞ্জুর না করলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে চলতি সপ্তাহেই বিষয়টি সুপ্রিম শুনানির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আজম খানের আইনজীবী নিজাম পাশা আদালতে দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে সওয়াল করেন।

এর আগে রবিবার গাজিয়াবাদের একটি বিশেষ মানি লন্ডারিং আদালত আজম খানকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়। বিতর্কিত জওহর ট্রাস্ট মামলার তদন্তের সূত্রে চরম নিরাপত্তার ঘেরাটোপে তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়েছিল। আদালতের বাইরে তখন তাঁর বিপুল সংখ্যক সমর্থকদের ভিড় জমে যায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ৩১ অক্টোবর ইডি আজম খানকে গ্রেফতার করে। কথিত দ্বৈত প্যান কার্ড মামলায় জামিন পেয়ে রামপুর জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পরপরই ইডি আজম খান এবং তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ আজম খানকে হেফাজতে নেয়। মূলত উত্তরপ্রদেশ পুলিশ কর্তৃক আজম খান ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৫৮টি পৃথক এফআইআর-এর সূত্র ধরেই এই মেগা অর্থ পাচার মামলার সূচনা করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

চলতি তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২৮ অক্টোবর মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের (PMLA) অধীনে রামপুরের বিখ্যাত মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তৃত জমি ও একাধিক ভবন বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে ইডি। বাজেয়াপ্ত হওয়া এই সকল সম্পত্তির বর্তমান বাজার দর প্রায় ১,১৭০ কোটি টাকা। ইডির গুরুতর অভিযোগ, রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ও গণপূর্তের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি তহবিলের বিপুল অর্থ ঘুরপথে এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণে ব্যবহার করেছিলেন তৎকালীন নগর উন্নয়ন মন্ত্রী আজম খান। জল নিগমের ওপর নিজের প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি সম্পন্ন করা হয়। ইতোমধ্যে রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের ৩৮টি ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিলে তা আদালতের দরজায় পৌঁছায়। সার্বিক পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন শুনানিই ঠিক করবে সমাজবাদী পার্টির বর্ষীয়ান এই নেতার আইনি ভবিষ্যৎ।