চিনকে জলপথে থরথর করে কাঁপাতে তৈরি ভারতের রাফাল! ৩৫০ কিমি দূরের শত্রুও হবে নিমিষে ছাই

ভারতীয় সমুদ্রসীমার সুরক্ষায় এক বিশাল এবং ঐতিহাসিক কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী। ফ্রান্স থেকে মোট ২৬টি অত্যাধুনিক রাফাল মেরিন (Rafale Marine) যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। এই ঘাতক যুদ্ধবিমানগুলোকে সরাসরি ভারতের স্বদেশী তৈরি বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত (INS Vikrant) থেকে পরিচালনা করা হবে। তবে ফরাসি এই যুদ্ধবিমানের শক্তি কেবল আন্তর্জাতিক প্রযুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; একে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আরও বেশি বিধ্বংসী অস্ত্রে সজ্জিত করার অভাবনীয় পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত।
বর্তমানে ফরাসি রাফাল মেরিন বিমানগুলো ‘এএম৩৯ এক্সোসেট’ (AM39 Exocet) ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা সজ্জিত থাকে, যার কার্যক্ষম পাল্লা মাত্র ৭০ কিলোমিটার। সমুদ্রযুদ্ধের আধুনিক সমীকরণে শত্রুপক্ষকে প্রতিরোধ করতে এই দূরত্ব বেশ ঝুঁকিযুক্ত। সেই কারণে ফরাসি এই মিসাইল ব্যবস্থার ওপর ভরসা না রেখে, ভারতীয় নৌবাহিনী রাফালে যুক্ত করতে চলেছে সম্পূর্ণ দেশীয় উপায়ে তৈরি ‘নেভাল অ্যান্টি-শিপ মিসাইল-মিডিয়াম রেঞ্জ’ বা এনএএসএম-এমআর (NASM-MR)।
কতটা ভয়ংকর এই এনএএসএম-এমআর (NASM-MR)?
প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) দ্বারা নির্মিত এই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি আধুনিক নৌ-যুদ্ধে গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে। ৬০০ কেজি ওজনের এই ‘ওভার-দ্য-হরাইজন’ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার। ম্যাক ০.৯ সাবসনিক গতিতে উড়ে গিয়ে শত্রু যুদ্ধজাহাজকে নিমিষে তছনছ করার ক্ষমতা রয়েছে এর।
সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৫ থেকে ১০ মিটার উচ্চতায় ভেসে উড়ে যাওয়ার ক্ষমতার কারণে শত্রুদেশের রাডার ব্যবস্থার পক্ষে এটিকে আগে থেকে সনাক্ত বা প্রতিরোধ করা প্রায় অসম্ভব। নৌবাহিনীর প্রাক্তন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শ্যাম কুমার জানান, ৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ দূরত্বের কারণে ভারতীয় বিমানগুলোকে আর শত্রু পক্ষের প্রতিরক্ষা বলয়ের ভেতর ঢুকতে হবে না; নিরাপদ দূরত্ব থেকেই তারা যেকোনো বড় যুদ্ধজাহাজকে নিশানা করতে পারবে।
ক্যাপ্টেন শ্যাম কুমার আরও নিশ্চিত করেছেন যে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম বড় শক্তির জায়গা হলো এর ‘পপ-আপ টার্মিনাল ম্যানুভার’ ক্ষমতা। অর্থাৎ, দূর থেকে একদম জলের উপর দিয়ে উড়ে এসে লক্ষ্যের ঠিক শেষ মুহূর্তে হঠাৎ তীব্র গতিতে উঁচুতে উঠে যুদ্ধজাহাজের ওপর সোজাসুজি আঘাত হানতে পারবে এটি।
কখন যুক্ত হচ্ছে নৌবহরে?
বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর মিগ-২৯ (MiG-29) যুদ্ধবিমানে এই বিধ্বংসী মিসাইলের জোরদার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। আশা করা হচ্ছে ২০২৭ সালের মধ্যে মিগ-২৯ বিমানবহরে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এরপর ২০৩০ সালের মধ্যেই রাফাল-এম যুদ্ধবিমানে যুক্ত হবে এনএএসএম-এমআর।
চীন সহ অন্যান্য প্রতিপক্ষ দেশগুলির শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হুমকি মোকাবিলায় ৩৫০ কিলোমিটার পাল্লার এই দেশীয় মিসাইল ভারতকে সমুদ্রে বিশাল কৌশলগত সুবিধা এনে দেবে। আর যেহেতু এটি ভারতেই বিপুল পরিমাণে উৎপাদিত হবে, তাই যেকোনো আপদকালীন পরিস্থিতিতে ভারত নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী এর বিশাল মজুত বজায় রাখতে পারবে।