ইতিহাসে প্রথমবার ৯,০০০ ফুট উঁচুতে বিরল কান্ড! নিরামিষাশী ভালুকের হাড়হিম করা ছবি দেখে চমকে উঠলেন গবেষকরা!

বনে খাদ্যাভাব ও আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে আসছে বিপজ্জনক রদবদল। বেঁচে থাকার তাগিদে নিরামিষাশী ও সর্বভুক প্রাণীরাও এখন ক্রমেই হিংস্র শিকারে পরিণত হচ্ছে, যা বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের রীতিমতো উদ্বেগে ফেলেছে। এমনই এক নজিরবিহীন ও রহস্যময় ঘটনা সম্প্রতি সামনে এসেছে, যা বিজ্ঞানীদেরও তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি এশীয় কালো ভালুক কর্তৃক বিপন্ন প্রজাতি লাল পান্ডা শিকার করার বিরল মুহূর্ত ক্যামেরা বন্দি হয়েছে। এশীয় ভালুকের খাদ্যাভ্যাস ও আচরণের এই আকস্মিক ও অভূতপূর্ব পরিবর্তন বন্যপ্রাণী গবেষণায় এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (WII)-এর গবেষকরা পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত ৭৮.৬ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের প্রায় ৯,০০০ ফুট উঁচুতে এই ঐতিহাসিক ও বিরল দৃশ্যটির ছবি তোলেন। ছবিতে স্পষ্ট দেখা যায়, একটি বিপন্ন লাল পান্ডাকে (আইলুরাস ফুলজেন্স) শিকার করছে একটি এশীয় কালো ভালুক (আর্সাস থিবেটানাস)। এশীয় কালো ভালুক মূলত সর্বভুক হলেও তাদের খাদ্যের সিংহভাগ জুড়ে থাকে বেরি, চেরি এবং ওক গাছের ফল। মাংসাশী হিসেবে এরা বড়জোর ছোট খাটো পোকা-মাকড়, কাঠবিড়ালি কিংবা ব্যাঙ খেয়ে থাকে। গাছবাসী চটপটে তৃণভোজী প্রাণী লাল পান্ডাদের প্রতি ভালুকরা সাধারণত উদাসীন থাকে। কিন্তু গাছ থেকে লাল পান্ডাকে শিকার করার এই ঘটনা প্রাণীটির পরিবর্তিত স্বভাবের স্পষ্ট প্রমাণ।
গবেষকদের মতে, এই ঘটনাটি আরও বেশি উদ্বেগজনক কারণ এটি ঘটেছিল ফেব্রুয়ারি মাসে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, সুমেরীয় ও আইবেরিয়ান ভালুক সহ এশীয় ভালুকেরা শীতকালে সাধারণত ২ থেকে ৭ মাস শীতনিদ্রায় (Hibernation) থাকে। নভেম্বরের শেষ থেকে মার্চ পর্যন্ত এদের কার্যকারিতা কমে যায়। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে শীতনিদ্রা ভেঙে ভালুকের এই শিকারের ঘটনা প্রমাণ করে যে, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও বনাঞ্চলে খাদ্যের তীব্র সংকটের কারণে এদের শীতনিদ্রার স্বাভাবিক ধরণ বদলে যাচ্ছে। গাছের উঁচু ডালে বাস করা চটপটে লাল পান্ডাও এখন আর নিরাপদ নয়। এই বিরল শিকারের ঘটনাটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা বনের বাস্তুতন্ত্রকে চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।