দাম বাড়তেই গ্যাসের বিরাট কালোবাজারি! ১ নভেম্বরের পর সাধারণ মানুষকে ঠকানোর খেলায় বড়সড় পর্দাফাঁস!

জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানা এলাকায় এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের বেআইনি কালোবাজারির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বিপুল সাফল্য অর্জন করল পুলিশ প্রশাসন। বৈরাগীপাড়া এলাকায় গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক মেগা হানাদারিতে এক ব্যক্তির জোড়া বাড়ি থেকে মোট ১০২টি গ্যাস সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই গোটা রাজগঞ্জ ব্লক জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
রাজগঞ্জ থানার পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে যে, বিগত বেশ কিছুদিন ধরে পুরো ব্লক জুড়ে সাধারণ মানুষের পকেট কেটে চড়া দামে এলপিজি সিলিন্ডার কালোবাজারি করার লিখিত অভিযোগ আসছিল। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিপদে পড়া আমজনতার কাছে আকাশছোঁয়া দামে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছিল। এই গুরুতর অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অভিযানে নামেন রাজগঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিকরা। তদন্তে নেমে আধিকারিকরা জানতে পারেন বৈরাগীপাড়ার এক প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজ বাড়িতে বেআইনিভাবে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করে তা চড়া দামে ব্ল্যাকে বিক্রি করছেন।
খবরের সত্যতা যাচাই করার পরেই সোমবার পুলিশ ওই ব্যক্তির দুটি বাড়িতে একযোগে অভিযান ও তল্লাশি চালায়। সেখান থেকেই একে একে উদ্ধার করা হয় ১০২টি সিলিন্ডার। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং চক্রের মূল পান্ডাদের পাকড়াও করতে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম-পরিচয় আপাতত গোপন রাখা হয়েছে। রাজগঞ্জ থানার এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, উদ্ধার করা সিলিন্ডারগুলি বাজেয়াপ্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই চক্রের পেছনে বড় কোনো সিন্ডিকেট বা এলপিজি এজেন্সির হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত চলছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১ নভেম্বর থেকে দেশজুড়ে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ১০ থেকে ১১.৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে গার্হস্থ্য ব্যবহারের ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। রান্নার গ্যাসের ক্রমবর্ধমান দাম ও যোগানের সংকটের সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে সাধারণ মানুষকে ঠকাতে না পারে, সে জন্য রাজগঞ্জ থানা জুড়ে লাগাতার এই বিশেষ অভিযান জারি থাকবে বলে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে।