এক নিমেষে বন্ধ চোখের ফ্রি অপারেশন! কাবুল-জালালাবাদে আন্তর্জাতিক অঙ্গদান আটকে দিল তালিবান ফতোয়া!

যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে জর্জরিত আফগানিস্তানে চোখের আলো ফিরে পাওয়ার যে সামান্যতম আশাটুকু বেঁচে ছিল, তালিবান শাসনের এক চরমপন্থী ফতোয়ায় তাও যেন চিরতরে অন্ধকারে তলিয়ে গেল। দেশের মূলধারার ইসলামী শিক্ষার বিরোধী—এই অনমনীয় ও বিতর্কিত যুক্তি সামনে এনে এবার আফগানিস্তান জুড়ে সমস্ত প্রকার কর্নিয়া প্রতিস্থাপন এবং চোখের জরুরি সংবেদনশীল অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও বন্ধ করার নির্দেশ জারি করেছে তালিবান প্রশাসন। শাসকগোষ্ঠীর এই কঠোর ফরমানের সরাসরি প্রভাবে রাজধানী কাবুল এবং জালালাবাদের মতো প্রধান শহরগুলির শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালগুলিতে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থার সহায়তায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিচালিত কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মানবিক ও জীবনদায়ী উদ্যোগটি এক নিমেষে থমকে গেছে।

দশকের পর দশক ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাত, সীমান্ত হামলা, মাইন বিস্ফোরণ এবং ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার দরুন আফগানিস্তানের অগণিত সাধারণ নাগরিক—বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক তরুণ, নারী ও কোমলমতি শিশু গুরুতরভাবে তাঁদের চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। দেশে উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামো, বিশেষজ্ঞ শল্যচিকিৎসক কিংবা প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জামের তীব্র সংকট সত্ত্বেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বিদেশি অলাভজনক মানবতাবাদী সংস্থার সহায়তায় বাইরে থেকে সংগৃহীত কর্নিয়া দিয়ে এই জটিল বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারগুলি নিয়মিত সম্পন্ন করা হচ্ছিল। এই মহতী উদ্যোগ অন্ধত্বের শিকার হওয়া বহু অসহায় আফগান নাগরিকের জীবনে পুনরায় নতুন করে পৃথিবী দেখার আলো ফিরিয়ে দিয়েছিল এবং বেঁচে থাকার নতুন আশা জোগাচ্ছিল। কিন্তু তালিবানের এই হঠকারী ও কট্টর নির্দেশের পর অস্ত্রোপচারের জন্য তালিকায় নাম নথিভুক্ত করে দিন গুনতে থাকা শত শত দৃষ্টিহীন রোগীর ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার সাগরে নিক্ষিপ্ত হলো।

স্থানীয় চিকিৎসক, সার্জন ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, তালিবানের কড়া শাস্তি, শারীরিক নির্যাতন ও কারাদণ্ডের ভয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় নেমে কেউ এই অমানবিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। অথচ সমগ্র ইসলামী বিশ্বের একাধিক প্রভাবশালী পণ্ডিত, শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় সংস্থা ও বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান অঙ্গদানের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারের চিকিৎসাকে বহু আগেই সম্পূর্ণ বৈ বৈধ ও মানবিক বলে সমর্থন জানিয়েছে। ২০২১ সালে দ্বিতীয়বার কাবুলের ক্ষমতা দখলের পর থেকে একের পর এক ফতোয়া ও বিধিনিষেধের বেড়াজালে আফগান নারীদের উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক মৌলিক অধিকার প্রায় পুরোটাই কেড়ে নিয়েছে তালিবান। তবে এবার তাদের কট্টর ও সংকীর্ণ মতাদর্শ সরাসরি সাধারণ মানুষের অপরিহার্য চিকিৎসা পরিষেবা এবং দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করার মতো মৌলিক মানবাধিকারের ওপর এক মর্মান্তিক আঘাত হানল, যা আন্তর্জাতিক মহলেও তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।