উৎসবের আলোয় ঢাকা অন্ধকারে বেঁচে থাকার সংগ্রাম, পুজোর ভিড়ে অন্য এক কলকাতার না বলা গল্প!

কোলাহলপূর্ণ শহরের বাসে আজ প্রচণ্ড ভিড়। কোনোমতে এক পায়ে দাঁড়িয়ে হাতল ধরে ঝুলছে শীর্ণ চেহারার এক যুবতী। তার চোখের কোণে নেই কোনো উৎসবের আনন্দ, মুখে নেই কোনো সুখী জীবনের ছাপ। আলতো হাতে কপাল থেকে আলুথালু চুল সরিয়ে ভিড়ের চাপে দমবন্ধ অবস্থায় পথ চলে সে। যার কাজের পরিধি কেবল নামী দোকানের পাঁজা করা নতুন জামাগুলোকে নিপুণ হাতে শেপ দেওয়া, তাকে কজন মনে রাখে? কবি হয়তো তার নাম দিয়েছিলেন ‘সেলাই দিদিমণি’। উৎসবে চারপাশে যখন পাটভাঙা জামার সুবাস আর গাড়ির কঁকিয়ে ওঠা হর্ন, তখন তার দু’চোখে লেপ্টে থাকে এক বিস্কুট আর উৎসবের প্যান্ডেলের স্বপ্ন।

অন্যদিকে, আরেক ভিড় ট্রেনে জানলার ধার আদায় করে নেয় কাচানো শার্ট পরা এক যুবক, সাথে তার পুরনো সিল্কের শাড়িতে সাজা স্ত্রী। তারা পুজো দেখতে নয়, কলকাতায় এসেছে চার দিন চার প্যান্ডেলের বাইরে খেলনা বিক্রি করে দু’মুঠো পেটের ভাত জোটাতে। জীর্ণ চেহারার ডাব বিক্রেতা থেকে শুরু করে রাস্তার ধারের ফুটপাতে ছেঁড়া ফ্রক পরা পথশিশুরা—সপ্তমী বা নবমীর কোনো হিসেব ওদের কপালে নেই। আকাশ যখন নীল হয়ে শারদীয় মেঘ ভেসে ওঠে, তখন ওদের ঘামে ভেজা জামা আরো ময়লা হয়ে যায়। তিলোত্তমা যখন আলোর রোশনাই আর সানাইয়ের সুরে ধকধক করে, তখন রাজপথকে ঠিকানা বানানো একদল মানুষের ভাগ্যে জমে শুধুই ঘুটঘুটে অন্ধকার।