যুবভারতীতে লাল-হলুদের স্বপ্নভঙ্গ! সামিরের একমাত্র গোলে ফের ডার্বি রাজা মোহনবাগান!

কলকাতা ডার্বিতে ফের একবার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত আইএফএ শিল্ডের এই হাইভোল্টেজ ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ গোলে পরাজিত করে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি নিজেদের দখলে রাখল সবুজ-মেরুন শিবির। এই জয়ের ফলে আইএফএ শিল্ডের ইতিহাসে মোহনবাগানের মোট ট্রফি সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ২২টিতে।
এদিনের ফাইনালে শুরু থেকেই অত্যন্ত আগ্রাসী মেজাজে মাঠে নামে ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটেই মোহনবাগানের রক্ষণভাগে প্রবল চাপ সৃষ্টি করে লাল-হলুদ ফুটবলাররা। বিশেষ করে ৬ মিনিটের মাথায় এডমন্ড লালরিন্দিকার দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছিল। বক্সে একেবারে একা হয়ে যাওয়া এডমন্ডের শট রুখে দিতে মোহনবাগান গোলরক্ষক বিশাল কাইথ বাঁ পা বাড়িয়ে দুর্দান্ত সেভ করে দলকে নিশ্চিত পতনের হাত থেকে বাঁচান। এরপর ১২ মিনিটে বিপিন সিংয়ের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে ফের গোলবঞ্চিত হয় ইস্টবেঙ্গল।
তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে মোহনবাগান। ১৫ মিনিটে এরউইনের আক্রমণ এবং ১৯ মিনিটে লালিয়ানজুয়ালা ছাংতের দুরন্ত দৌড় ইস্টবেঙ্গল রক্ষণে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। ২৪ মিনিটে মেহতাব সিংয়ের হেড ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়। এরপর ম্যাচের ৩৫ মিনিটের পর খেলার ছবি পুরোপুরি বদলে যায়। ৩৭ মিনিটে সবুজ-মেরুনের দুটি চমৎকার শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক ফুরবা লাচেনপা।
ম্যাচের নির্ণায়ক গোল
ম্যাচের যখন প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্ত, তখনই আসে সেই সোনালী মুহূর্ত। ৪৫ মিনিটে সাহাল আবদুল সামাদের বাড়ানো একটি চিপ করা বল বক্সের ঠিক ভেতরে পেয়ে যান সামির জেলজকোভিচ। বুক দিয়ে বল নামিয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান এবং প্রথমার্ধ শেষ হয় এই ব্যবধানেই।
দ্বিতীয়ার্ধের লড়াই ও রক্ষণ জমাট রাখা
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায় ইস্টবেঙ্গল। ৫০ মিনিটে কর্নার পেলেও মোহনবাগানের জমাট রক্ষণ তা সহজেই ক্লিয়ার করে দেয়। ৫৮ মিনিটে সন্দীপ মান্ডি ও ড্রাজিচের সংঘর্ষে মাঠে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও রেফারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ৬৬ মিনিটে সাহালকে তুলে মনবীর সিংকে মাঠে নামায় মোহনবাগান কোচ।
ম্যাচের শেষ দিকে সমতা ফেরানোর বহু চেষ্টা করে লাল-হলুদ। ৭৭ মিনিটে শেষ হাইড্রেশন ব্রিকের পর ম্যাচের শেষ ১৩ মিনিটে আক্রমণের ধার বাড়ায় তারা। ৮৪ মিনিটে ফ্রি-কিক পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি দল। ৮৭ মিনিটে দানি রামিরেজের ভাসানো বলে লুকাস জভোলিনস্কি হেড করলেও তা জালের ঠিকানা পায়নি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৭ মিনিট সময় যোগ করা হলেও ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগানের দুর্গ ভেদ করতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত রেফারির অন্তিম বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে সবুজ-মেরুন শিবির। ১-০ গোলের জয়ে ফের একবার শিল্ডের সোনালী ট্রফি নিজেদের নামে লিখিয়ে নিল মোহনবাগান।