ফ্লাইদুবাই বিমান কাণ্ড: ওমানি পাইলটকে ফেরত পাঠিয়েও ৮ দিন পর কেন তদন্ত শুরু করল সৌদি আরব?

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান দুর্ঘটনা ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্যে যুক্ত হলো এক নতুন অধ্যায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর এবার এই হাইপ্রোফাইল ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে সৌদি আরব। সে দেশের দাবি, বিমানটি যখন তাদের আকাশসীমার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল, তখন সেই ওমানি পাইলট সেটিকে বিধ্বস্ত করার সচেষ্ট হয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে সৌদি মাটিতে নিরাপদে অবতরণ করানো সম্ভব হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের এই আকস্মিক তদন্ত এই বিমান মামলার গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। এতদিন কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনি সংস্থাগুলোই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছিল। কিন্তু ঘটনার প্রায় আট থেকে দশ দিন পর সৌদি কর্তৃপক্ষের এই তদন্তের ঘোষণা গোটা বিষয়টিকে আরও জটিল ও রহস্যজনক করে তুলেছে।
সৌদি তদন্তে যে প্রশ্নগুলো উঠে আসছে
সৌদি আরব মূলত এই ঘটনার প্রযুক্তিগত দিকগুলো খতিয়ে দেখছে। বিশেষ করে, কো-পাইলট যখন মূল পাইলটের ওপর আক্রমণ চালান, সেই সংকটময় মুহূর্তে বিমানটি কতটা নিরাপদ ছিল, তা নির্ধারণ করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া সৌদি প্রশাসন এই তদন্তে মূলত ৫টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উত্তর খুঁজছে:
সংযুক্ত আরব আমিরাত ঠিক কী ধরনের পটভূমি যাচাই বা ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করে এই ওমানি পাইলটকে নিয়োগ করেছিল?
ফ্লাইটটিকে নিরাপদ রাখতে ককপিটে কি কোনো বিকল্প বা আপৎকালীন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল?
বিমানটি যদি সেদিন সত্যি বিধ্বস্ত হতো, তবে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত হতে পারত?
এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় কি একা ওমানি পাইলটের, নাকি সার্বিক বিমান চালনা ব্যবস্থাতেই কোনো বড় ত্রুটি ছিল?
প্রায় ১৪,০০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার পরেও কীভাবে অলৌকিকভাবে বিমানে থাকা একজন যাত্রীও আহত হলেন না?
ওমানি পাইলট ও ঘটনার নেপথ্য কাহিনী
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে চরম বিপদের মুখে পড়েছিল। অভিযোগ ওঠে, বিমানের এক ওমানি পাইলট সেটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে অন্যান্য ক্রু মেম্বার ও কিছু যাত্রীর চরম সাহসিকতা এবং উপস্থিত বুদ্ধির জোরে বড়সড় এক বিমান দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনার পরপরই সৌদি আরব সংশ্লিষ্ট ওমানি পাইলটকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফেরত পাঠিয়ে দিলেও, হঠাৎ করে কেন তারা এই তদন্ত শুরু করল—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। এই তদন্ত শেষ পর্যন্ত ওই পাইলটের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে নাকি আইনি ফাঁস আরও শক্ত করবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।