ভোটের আগেই উত্তরপ্রদেশে ১৬ লক্ষ ‘ভুতুড়ে ভোটার’? ভোটার তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক রিপোর্টে তোলপাড়!

বিধানসভা নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হতেই উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকা নিয়ে দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। খসড়া তালিকা প্রকাশের আগেই ফর্ম-৬ একত্রিত করে রহস্যজনক ভাবে প্রায় ১৬.১৮ লক্ষ নতুন নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ওই লক্ষাধিক ভোটারের আসল পরিচয় ও বিশদ তথ্য সাধারণের আড়ালে রাখার জন্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগও তুলছে বিভিন্ন মহল। যদিও উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন, তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কী বলছে বিস্ফোরক রিপোর্ট?
আইন অনুযায়ী, প্রতিটি বুথের নির্দিষ্ট ভোটার তালিকা এবং দাবি-আপত্তির তালিকা আলাদাভাবে প্রকাশ করতে হয় নির্বাচন কমিশনকে। কিন্তু ‘Reporters’ Collective’-এর সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্যের ভোটার তালিকায় লক্ষ লক্ষ ভুতুড়ে ভোটারের নাম জবরদস্তাঁ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তিবিদদের সাহায্য নিয়ে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং সদ্য প্রাপ্তবয়স্কদের ফর্ম-৬ এর আবেদনগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়। সেখানে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত করার জন্য ৭১.৩৮ লক্ষ আবেদন জমা পড়লেও চূড়ান্ত তালিকায় ৮৪.৩ লক্ষ ভোটারকে যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, মোট আবেদনকারীর সংখ্যার চেয়ে প্রায় ১২.৯২ লক্ষ বেশি নাম বেআইনিভাবে তালিকায় ঢুকে পড়েছে!
খসড়ার আগেই ১৬ লক্ষ নাম?
বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ওই ১৬.১৮ লক্ষ আবেদন। গত ৭ মার্চ কমিশনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, খসড়া তালিকা তৈরির আগেই নাকি এই বিপুল সংখ্যক ফর্ম-৬ জমা পড়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, খসড়া তালিকা প্রকাশের পরই মানুষ নাম বাদ যাওয়া বা ডুপ্লিকেট ভোটারের হিসেব দেখতে পান। কিন্তু খসড়া প্রকাশের আগেই এত বড় সংখ্যায় আবেদন জমা পড়ল কী করে এবং তা কোন প্রক্রিয়ায় বৈধ হলো, তার কোনো সদুত্তর নেই। সদ্য প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বিশদ তথ্য প্রকাশের নিয়ম থাকলেও, উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে। Reporters’ Collective-এর পক্ষ থেকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবদীপ রিনওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নাগরিকদের সন্দেহ বা প্রশ্ন নিরসনের জন্য তাঁদের দপ্তর কোনো পরিষেবা দেয় না।
সমালোচনার মুখে নির্বাচন কমিশনের সাফাই
চারিদিকে প্রবল সমালোচনার ঝড় উঠলে অবশেষে মুখ খোলেন CEO নবদীপ রিনওয়ার। তিনি সাফাই দিয়ে জানান, ১৬.১৮ লক্ষ ফর্ম-৬ জমা পড়ার অর্থ এই নয় যে এক ধাক্কায় অতগুলি নাম ভোটার তালিকায় তুলে নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট ও কঠোর আইনি প্রক্রিয়া মেনেই সমস্ত ফর্ম যাচাই করা হয়েছে। এই ভোটারদের ‘ভুয়ো’ বা ‘ভুতুড়ে’ বলা ভুল বলে দাবি করেন তিনি।
এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক তরজা
উত্তরপ্রদেশে SIR প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় প্রায় ২.৮৯ লক্ষ মানুষকে অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত বা মৃত দেখিয়ে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা মোট ভোটারের প্রায় ১৮ শতাংশ। এই ঘটনায় খোদ শাসকদল বিজেপির অন্দরেও উদ্বেগ ছড়ায়। পরবর্তীতে বুথস্তর থেকে নাম তোলার হিড়িক পড়ে যায়।
এদিকে, বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে এই তথ্য সামনে আসায় বিরোধীরা একযোগে ময়দানে নেমে পড়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সরাসরি কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী গড়গুলিকে দুর্বল করতে এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই ভোটার তালিকায় পরিকল্পিতভাবে এই কারচুপি করা হয়েছে। নির্বাচন যতই এগোচ্ছে, এই ভোটার তালিকা বিতর্ক ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।