দিল্লিতে চোখের পলকে ধসে পড়ল পাঁচতলা বাড়ি! মর্মান্তিক মৃত্যুতে গর্ভবতী নারী ও শিশুর করুণ পরিণতি, নেপথ্যে কোন ভয়ংকর সত্য?

দিল্লির সীমাপুরী এলাকায় ঘটা এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। গত বুধবার হঠাৎ করেই একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন ধসে পড়ে, যার জেরে প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মাত্র ১২ বছরের এক বালিকা এবং ২১ বছরের এক তরুণী, যিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এই আকস্মিক বিপর্যয়ে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান পরিস্থিতি হঠাৎ বিকট শব্দে ভবনটি ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকায় হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে পাঁচতলা ভবনটির ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে রাস্তায়। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল। স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। দীর্ঘ চেষ্টার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১১ জনকে অক্ষত বা আহত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, চারজনের জীবন রক্ষা করা যায়নি।

গত তিন বছরে ১১৩টি ভবন ধসে মৃত্যু ৯৮ জনের দিল্লিতে পুরোনো ও ভঙ্গুর ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে যে আশঙ্কা দীর্ঘদিনের, এই ঘটনা তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে রাজধানীতে মোট ১,১৩৩টি ভবন ধসের ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৯৮ জন মানুষ, আর আহত হয়েছেন শত শত।

বছরভিত্তিক পরিসংখ্যান আরও উদ্বেগজনক:

  • ২০২২-২৩: ৩৪৯টি ঘটনা, ৪৩ জনের মৃত্যু এবং ৩১৫ জন আহত।

  • ২০২৩-২৫: ৩৭১টি ঘটনা, ২৩ জনের মৃত্যু এবং ১৭১ জন আহত।

  • ২০২৪-২৫: ৪১৩টি ঘটনা, ৩২ জনের মৃত্যু এবং ১৮৭ জন আহত।

পরিসংখ্যান পরিষ্কার বলছে, গত তিন বছরে দিল্লিতে ভবন ধসের ঘটনা কেবল বেড়েই চলেছে, যা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা।

প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ফারাক কোথায়? এর আগে দিল্লির সত্য নিকেতন ভবন ধসের পর নড়েচড়ে বসেছিল প্রশাসন। সে সময় নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে অনুমতি ছাড়া তৈরি পাঁচতলা ভবনগুলো সিলগালা করা হবে। পাশাপাশি পিজি বা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর নিয়মিত কাঠামোগত নিরীক্ষা এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সেই সরকারি নির্দেশ ও পরিদর্শনের নিয়মগুলো কি তবে কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে? পুরোনো ও দুর্বল ভবনগুলোর নিয়মিত তদারকি কেন হচ্ছে না? সময়মতো অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে কি আজকের এই মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো যেত না? সীমাপুরীর এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা প্রশাসনের নজরদারি এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।