পাকিস্তানের প্রতি আমার এই অন্ধ টানের আসল রহস্য কী! বিস্ফোরক মন্তব্য করে চরম বিতর্কে গায়ক মিকা সিং!

বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী মিকা সিং সম্প্রতি একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে পাকিস্তান সম্পর্কে তাঁর ব্যক্তিগত অনুরাগের কথা খোলামেলাভাবে প্রকাশ করেছেন, যা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে তিনি গুরু নানক দেবজির জীবন দর্শন এবং পাকিস্তান ও ভারতের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “এটা আমাদের সংস্কৃতি… গুরু নানক দেবজি শিখ ধর্মে লঙ্গর প্রথা শুরু করেছিলেন। তাঁর বাবা মেহতা কালুজি তাঁকে ২০ টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে বলেছিলেন, আর তিনি সেই টাকায় লঙ্গর প্রথা চালু করেন। আজ সারা বিশ্বে সেই লঙ্গর ব্যবস্থা চলছে। আমি যখন পাকিস্তানে গিয়েছিলাম, তখন দেখেছি সেখানকার গুরুদ্বারগুলোতে স্থানীয় বহু মুসলমান ভাই অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা ও পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন।”
পাকিস্তান সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে মিকা আরও বলেন, “গুরু নানক দেবজি যখন দেহত্যাগ করেন, তখন মুসলমানরা তাঁকে নিজেদের বলে দাবি করে দরগাহ বানানোর চেষ্টা করেছিলেন, আবার হিন্দু ও শিখরাও তাঁকে নিজেদের বলে মানেন। পাকিস্তানের মানুষের প্রতি আমার আকর্ষণের অন্যতম বড় কারণ এটি। আমি বুঝি না কেন আমরা পাকিস্তানের সাধারণ মানুষকে খারাপ মনে করি। অথচ দুবাইয়ের মুসলমানদের আমরা সানন্দে গ্রহণ করি।” অতীতে তাঁর পাকিস্তান সফর নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক প্রসঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় গায়ক বলেন, “সরকার কি আপনাদের পাকিস্তানে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে? আপনারা তো বৈধ ভিসা নিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই যান। আমি তো লুকিয়ে বা গোপনে যাইনি, ফ্লাইটে চড়েই গিয়েছিলাম। বিশ্বজুড়ে মানুষ জানত। সেখানে পারফর্ম করায় তো কোনো আইনি বাধা নেই।”
বলিউড ইন্ডাস্ট্রির দ্বিমুখী নীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মিকা বলেন, “পাকিস্তানি শিল্পীরা যখন ভারতে গান গাইতে আসেন, তখন পুরো বলিউড ইন্ডাস্ট্রি তাঁদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত থাকে। পাকিস্তানি গায়কদের নিয়ে কারও কোনো আপত্তি থাকে না। অথচ ভারতের কোনো শিল্পী সেখানে সম্মান পেলে কিছু মানুষের সমস্যা হয়। পাকিস্তানের মানুষ যদি আমাকে শ্রদ্ধা করেন, তবে আমাদের খুশি হওয়া উচিত যে ভারতের একজন প্রতিনিধি সেখানে গিয়ে নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দেশকে সম্মানিত করছেন।”
পাকিস্তানের প্রতি তাঁর গভীর মানসিক ও আত্মিক সংযোগের আসল কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মিকা জানান, এই অনুরাগের পেছনে রয়েছে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আবেগ। তাঁর কথায়, “কেন আমি পাকিস্তানের প্রতি সবচেয়ে বেশি অনুরক্ত, তার পেছনে অত্যন্ত আবেগঘন কাহিনী রয়েছে। সেখানে আমাদের পবিত্র নানকানা সাহেব গুরুদ্বার অবস্থিত। পাকিস্তানে তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুরুদ্বার রয়েছে। অতীতে যখনই পাকিস্তান থেকে আমন্ত্রণ পেতাম, আমার মনে হতো যেন স্বয়ং গুরুর ঘর থেকে ডাক এসেছে। সেখানে যাওয়ার জন্য আমার মনে টাকার কোনো লোভ বা আকাঙ্ক্ষা থাকত না, কেবল গুরু দর্শনের তীব্র ইচ্ছা কাজ করত।”