‘আমি তো পাত্তাই দিই না, আপনারা কেন দিচ্ছেন?’ হুমায়ুনের গ্রেপ্তারিতে ফুঁসে উঠলেন শুভেন্দু!

রেজিনগরে উপনির্বাচনের উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীরের গ্রেপ্তারির ঘটনায় নতুন মোড় নিল রাজ্য রাজনীতি। ভোটের দিন সকালে পুলিশি বচসা ও উত্তেজনার জেরে হুমায়ুন কবীরকে আটক এবং পরে গ্রেপ্তার করার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এই পুরো ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে নিজের ভোটদান সেরে বেরোনোর সময় সাংবাদিকরা হুমায়ুন কবীরের গ্রেপ্তারির বিষয়ে প্রশ্ন করলে শুভেন্দু অত্যন্ত স্পষ্ট ও কড়া ভাষায় বলেন, “আমি তো গুরুত্ব দিচ্ছি না। আপনারা কেন দিচ্ছেন? কেন উনি বুথের বাইরে যাচ্ছেন? আমিও আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়ে নিয়ম ভাঙতে পারি না। উনি কেন যাচ্ছেন?”

শুভেন্দু অধিকারীর মতে, ভোটের দিনে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম সবার জন্য সমান। প্রার্থী না হয়েও হুমায়ুন কবীরের বিভিন্ন বুথে ঘুরে বেড়ানো এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা আইনত অপরাধ। পুলিশ অত্যন্ত সঠিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ করেছে বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। শুভেন্দু আরও বলেন, আজ রাজ্যে কোনো নেতার বা মুখ্যমন্ত্রীর শাসন চলছে না, চলছে নির্বাচন কমিশনের শাসন। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন এবং বুথের বাইরে অযথা ভিড় জমিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অধিকার কারও নেই। একই সঙ্গে এক বেনজির হুশিয়ারিতে তিনি শাসকশিবিরকে নিশানা করে বলেন, “৯ তারিখ বহরমপুরে দেখে নেব।”

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল থেকেই রেজিনগরে ভোটের শুরু থেকেই তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ ছিল, ভোর থেকেই তাঁর বাড়ি ঘিরে রেখেছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং শাসকদলের মদতে এলাকায় অবাধে ভোট লুট চলছে। অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তিনি নিয়ম ভেঙে বুথ চত্বরে প্রবেশ করেন এবং পুলিশের সঙ্গে তীব্র ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনার পরেই তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই হাই-ভোল্টেজ গ্রেপ্তারির পর রেজিনগরে রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে পৌঁছেছে।