২০০ বছর পর ব্রিটিশভূমে ‘উল্টো উপনিবেশবাদ’! লন্ডনের রাস্তায় দেশি অটো দেখে হতবাক খোদ আনন্দ মাহিন্দ্রা!

যুক্তরাজ্যের রাস্তায় একটি ভারতীয় অটোরিকশার উপস্থিতি অনলাইনে দারুণ বিনোদন ও হাসির খোরাক জুগিয়েছে। খোদ শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রা ব্রিটিশ সড়কে এই তিন চাকার যানটির একটি ভিডিও শেয়ার করার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমের বন্যা বয়ে গেছে। ভারতীয় উপমহাদেশের অতি পরিচিত এই যানটিকে ভিনদেশে চলতে দেখাটা নেটিজেনদের কাছে যেমন চমকপ্রদ, তেমনই বেশ কৌতুকপূর্ণ ঠেকেছে।

এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন টুইটার) ভিডিওটি পোস্ট করে আনন্দ মাহিন্দ্রা গুজরাটি ভাষায় লেখেন, “ইউকে মা রিকশা আভি গয়ি ছে… মাহিন্দ্রা নি ছে, আপদা।” অর্থাৎ, রিকশাটি যুক্তরাজ্যে পৌঁছে গেছে এবং এটি মাহিন্দ্রার নিজস্ব। তিনি জানান যে, কোনো এক শৌখিন ব্যক্তি শখ করে এই যানটি সেখানে আমদানি করেছেন। এই ভিডিওটি সামনে আসতেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ব্রিটিশ রাজপথে পরিচিত এই যানটিকে দেখে বহু মানুষ বিভিন্ন রসাত্মক মন্তব্য করতে শুরু করেন। এক ব্যবহারকারী একে ২০০ বছর পর “বিপরীত উপনিবেশায়ন” বলে আখ্যা দিয়েছেন। আবার কেউ রসিকতা করে বলেছেন যে, লন্ডনের বৃষ্টি ও কুয়াশার মধ্যে এবার ব্রিটিশরা একজন খাঁটি ভারতীয় অটোচালকের অভিজ্ঞতা লাভ করবে।

মন্তব্য বাক্স জুড়ে ভারতীয় অটোতে থাকা বিভিন্ন ক্লাসিক স্লোগান নিয়ে হাসিঠাট্টা শুরু হয়। এক নেটিজেন মজা করে লেখেন যে, এই রিকশাটিতে “বুরি নজর ওয়ালে তেরা মু কালা,” “হর্ন প্লিজ” কিংবা “জায়গা পাওয়া গেলেই পাশ দেওয়া হবে”-এর মতো আইকনিক লাইনগুলো মিস করছেন তিনি। কেউ কেউ আবার যুক্তরাজ্যে এই অটোতে চড়ার ভাড়া নিয়ে চালকের সঙ্গে চিরাচরিত বচসার কল্পনা করে হাসিতে ফেটে পড়েছেন। কেউ এই রিকশাকে “চায়ের কাপের পর সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী ব্রিটিশ আমদানি” বলেও অভিহিত করেছেন।

ভারত বা এশিয়ার দেশগুলোতে গণপরিবহনের একটি অত্যন্ত চেনা মাধ্যম হলো এই অটো রিকশা। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলোর ঝকঝকে রাস্তায় এ ধরনের যান সচরাচর দেখা যায় না। ফলে বিশেষ দিনে বিদেশের মাটিতে এমন একটি দৃশ্য যেমন অবাক করেছে, তেমনই আনন্দের খোরাকও জুগিয়েছে। সবমিলিয়ে, আনন্দ মাহিন্দ্রার এই পোস্ট এবং নেটিজেনদের বুদ্ধিদীপ্ত ও হাস্যরসাত্মক প্রতিক্রিয়া ইন্টারনেট দুনিয়ায় এক দারুণ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।