‘পুলিশের চাকরিবাকরি খাটিয়ে দেব!’ উর্দিধারীদের চ্যালেঞ্জ করে অবশেষে পুলিশের জালে হেভিওয়েট নেতা

রেজিনগরে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্বের শুরু থেকেই রাজনৈতিক পারদ চড়েছিল চরমে। আর তা একেবারে তুঙ্গে উঠল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীরের নাটকীয় গ্রেপ্তারির মধ্য দিয়ে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। উর্দিধারীদের উদ্দেশে একের পর এক আক্রমণাত্মক মন্তব্য করার পাশাপাশি তিনি প্রশাসনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। শুধু তাই নয়, ভোটের কাজে বা পুলিশি বাধাদানের চেষ্টা হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সোজা রাস্তায় ‘মুগুর’ বা লাঠি নিয়ে নামার চরম হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ও হুমকির ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
হুমায়ুনের এই প্রকাশ্য হুমকির পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন এবং বড় পদক্ষেপ করে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভোটের দিন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ তৎক্ষণাৎ তাঁকে আটক করে। ক্যামেরার সামনেই তাঁকে ঘিরে ধরে পুলিশকর্মীরা, আর তারপর শুরু হয় ধস্তাধস্তি। অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে তীব্র বচসায় জড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে জোর করে টেনে-হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয় এবং সেখান থেকে সোজা রেজিনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই আকস্মিক পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এমন ঘটনা রেজিনগরের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। একদিকে যখন ভোটাররা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছেন, ঠিক তখনই এক হেভিওয়েট নেতার এহেন গ্রেপ্তারির জেরে গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না চলে যায়, সে জন্য নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোটা এলাকায় বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দফায় দফায় পুলিশি টহলে থমথমে হয়ে রয়েছে রেজিনগর। ভোটগ্রহণ পর্বের বাকি সময়টুকু আর কতটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, এখন সেটাই দেখার।