চাকরি খাচ্ছে এআই? ২০৩০-এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি হোয়াইট-কলার চাকরি কি সত্যি উধাও হবে? জেনে নিন আসল সত্য!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত প্রসার বিশ্বজুড়ে চাকরিপ্রার্থী ও পেশাদারদের মনে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মতে, আগামী দিনে এআই লাখ লাখ কর্মসংস্থানে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদদের একাংশের জোরালো দাবি, এআই-এর উত্থানের অর্থ সরাসরি চাকরি হারানো নয়। বরং এই প্রযুক্তি কাজের ধরন আমূল বদলে দিয়ে অজস্র নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্সের একটি সমীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কর্মসংস্থান সম্পর্কিত ৭৪টি গবেষণার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কর্মসংস্থানের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাবের অনুমান ঋণাত্মক ২০% থেকে ধনাত্মক ২৫% পর্যন্ত বিস্তৃত। অর্থাৎ, এআই ঠিক কতগুলো নতুন চাকরি তৈরি করবে কিংবা কতটা বরবাদ করবে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট সর্বজনীন পরিসংখ্যান নেই। এর মধ্যে অ্যানথ্রোপিকের সিইও ডারিও আমোডি সতর্ক করে বলেছেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে এআই-এর কারণে প্রায় অর্ধেক নিম্ন-স্তরের হোয়াইট-কলার চাকরি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসও মনে করেন, সঠিক সরকারি নীতি প্রণীত না হলে আগামী দশকে চাকরির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।
তবে প্রবীণ অর্থনীতিবিদরা এই ধরনের আশঙ্কাজনক দাবির বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। অতীতে অটোমেশনের কারণে ব্যাপক বেকারত্বের যত ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, তার অধিকাংশই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার পিসারিডেসের মতে, প্রযুক্তির ধাক্কায় গণহারে চাকরি হারানোর বেশিরভাগ আশঙ্কাই অমূলক প্রমাণিত হয়েছে। ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর মূল যুক্তি হলো, চাকরি ও কাজ এক জিনিস নয়; একটি চাকরি নানা কাজের সমষ্টি মাত্র। এআই হয়তো নির্দিষ্ট কিছু কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে পারে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে পুরো পদটিই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। যেমন, এআই ডেটা বিশ্লেষণ বা প্রেজেন্টেশন তৈরি করলেও ক্লায়েন্টের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি বা আইডিয়া বাস্তবায়নের কাজটি মানুষেরই হাতে থাকে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ওইসিডি-র (OECD) ১৩টি দেশের ৮,০০০ নিয়োগকর্তার ওপর চালানো একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, এআই ব্যবহারকারী প্রতি ১০টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১টি কর্মী ছাঁটাইয়ের কথা জানিয়েছে এবং মাত্র ১% কোম্পানি বেকারত্বের প্রধান কারণ হিসেবে এআই-কে দায়ী করেছে। যদিও জুনিয়র বা শিক্ষানবিশ কর্মীদের ক্ষেত্রে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে, কারণ এআই জ্যেষ্ঠ কর্মীদের অনেক গতানুগতিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সাহায্য করছে। পাশাপাশি, এআই নতুন কর্মসংস্থান ও বাজারও তৈরি করছে। যেমন, ডেটা সেন্টারের জন্য প্রকৌশলী প্রয়োজন এবং সাশ্রয়ী আইনি বা স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে মূল প্রশ্ন শুধু চাকরি হারানোর নয়, বরং এআই-এর সুফল যেন সঠিকভাবে বণ্টিত হয় এবং ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান না বাড়ে, সেদিকে নীতিনির্ধারকদের নজর দিতে হবে।