পথপ্রাণীদের জন্য মেগা প্রজেক্ট! অনন্ত আম্বানির ‘চ্যাম্পিয়ন্স অফ কেয়ার’ উদ্যোগে দেশজুড়ে চিকিৎসার আলো

বিশ্ব প্রাণী দিবস উপলক্ষে ভারতের পশুপাখি ও পথপ্রাণীদের সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ ঘোষণা করলেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং বিশিষ্ট প্রাণীপ্রেমী অনন্ত আম্বানি। বাস্তবসম্মত এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে সারা দেশে অবহেলায় থাকা পথপ্রাণীদের সুরক্ষা, উদ্ধার ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বনতারার নতুন উদ্যোগ হিসেবে চালু করা হয়েছে ‘চ্যাম্পিয়ন্স অফ কেয়ার’। এই বিশেষ সামাজিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—প্রতিটি পথপ্রাণী যেন সঠিক যত্ন, সুরক্ষা এবং ন্যূনতম জীবনযাত্রার মর্যাদা পায়।
এই মেগা প্রকল্পের আওতায় সারা ভারতের ৫০টিরও বেশি অগ্রণী প্রাণী কল্যাণ সংস্থাকে একটি অভিন্ন ও ঐক্যবদ্ধ মঞ্চে নিয়ে আসা হয়েছে। এই সংস্থাগুলি রাজপথের কুকুর, বিড়াল থেকে শুরু করে পরিত্যক্ত গবাদি পশু, ঘোড়া, গাধা এবং দুর্ঘটনাকবলিত বা নির্যাতিত পশুপাখিদের উদ্ধার ও সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি আধুনিক ওয়েলফেয়ার হসপিটাল, মোবাইল রেসকিউ ভ্যান, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং মানবিক উপায়ে পশুদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অ্যানিম্যাল বার্থ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম পরিচালনা করা এই উদ্যোগের মূল অগ্রাধিকার।
জাতীয় স্তরে প্রাণী কল্যাণে গঠিত বিধিবদ্ধ পরামর্শদাতা সংস্থা ‘অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার বোর্ড অব ইন্ডিয়া’-এর আটজন প্রবীণ সদস্যও বনতারার এই বিশেষ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। ‘চ্যাম্পিয়ন্স অফ কেয়ার’ প্রকল্পের প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতি বছর সারা ভারতে আনুমানিক ২০ লক্ষেরও বেশি অসুস্থ, গৃহহীন ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা প্রাণী প্রত্যক্ষ চিকিৎসা, পুষ্টিকর খাদ্য, নিরাপদ আশ্রয় এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিচর্যার সুবিধা পেতে চলেছে। বনতারায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের মূল আকর্ষণ ছিল বনতারা এবং অংশগ্রহণকারী ৫০টিরও বেশি রাজ্যভিত্তিক প্রাণী কল্যাণ সংস্থার মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। প্রথম দিনে প্রতিনিধিরা উদ্ধার করা হাতি, সিংহ, বাঘ এবং স্বাধীনভাবে বিচরণকারী তৃণভোজী প্রাণীদের জন্য বনতারার বিশ্বমানের পরিকাঠামো পরিদর্শনের সুযোগ পান। সম্মেলনের শেষ পর্বে নিরলস সেবার স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিটি সংস্থাকে অনন্ত আম্বানির সই করা বিশেষ প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনন্ত আম্বানি বলেন, “প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সীমিত সামর্থ্য নিয়েও নিঃশব্দে পশুপাখিদের সেবা করে চলেছেন। ‘চ্যাম্পিয়ন্স অফ কেয়ার’-এর মাধ্যমে আমরা তাঁদের পাশে দাঁড়াতে চাই, যাতে যৌথ প্রচেষ্টায় একটি আরও করুণাময় ও সহানুভূতিশীল ভারত গড়ে তোলা যায়।” একইসঙ্গে AWBI-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান এস. পি. গুপ্তা এই দূরদর্শী ভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করে জানান, মানুষের চিকিৎসাকেন্দ্রের মতো প্রাণীদের জন্য এমন আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ও আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার নজির বিশ্বের বুকে বিরল।
দেশজুড়ে একটি শক্তিশালী ও স্থায়ী নেটওয়ার্ক তৈরি করতে বদ্ধপরিকর বনতারা। কেবল স্বল্পমেয়াদী সাহায্য নয়, বরং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, রেসকিউ অ্যাম্বুলেন্স, ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম, বৃষ্টির জল সঞ্চয় পরিকাঠামো এবং আধুনিক বায়ো-মেডিকেল প্রযুক্তি সরবরাহ করে সংগঠনগুলিকে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে। জাতীয় স্তরের এই মহতী উদ্যোগে কলকাতার ‘CAPE Foundation’, ‘People for Animals’ এবং বাঁকুড়ার ‘Purposeful Planet Foundation’-এর মতো পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি পরিচিত সংস্থাও পূর্ণ সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছে।