কড়া নিরাপত্তায় নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ! বুথ থেকে বেরিয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে কী বার্তা দিলেন শুভেন্দু?

কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে মঙ্গলবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে হাই-প্রোফাইল নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। নিজের পুরনো ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রে ভোট দিতে এদিন নন্দনায়কবাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৯ নম্বর বুথে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন যে, নন্দীগ্রামে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে।ভোটের হার এবং জয়ের ব্যবধান নিয়ে এদিন যথেষ্ট আশাবাদী শোনায় মুখ্যমন্ত্রীকে। তাঁর মতে, সাধারণত উপনির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকে, তবে এ ক্ষেত্রে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ বা তার বেশি ভোট পড়তে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রায় ৮০ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। এ বারের উপনির্বাচনে সেই রেকর্ডও ভাঙতে পারে বলে তাঁর জোরালো বিশ্বাস। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে জয়লাভের পর ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দিয়েছিলেন শুভেন্দু, যার ফলেই এই উপনির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এবারের নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন প্রয়াত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। ফলে রাজনৈতিক সমীকরণের পাশাপাশি এই নির্বাচনকে ঘিরে এক গভীর আবেগও কাজ করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, নন্দীগ্রামের মাটির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের নাড়ির টান ও সম্পর্ক রয়েছে। একজন সাধারণ ভোটার হিসেবে আমৃত্যু তিনি এই কেন্দ্রের সঙ্গেই যুক্ত থাকবেন এবং নন্দনায়কবাড়ের এই বুথেই তাঁর নাম নিবন্ধিত থাকবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তাবলয় এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের যৌথ টহলদারির জেরে এদিনের নির্বাচন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ রয়েছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন সমস্ত রাজনৈতিক দল ও মহলের নজর আগামী ৯ অক্টোবর ভোট গণনার দিনের দিকে। দেখার বিষয়, নন্দীগ্রামের ভোটাররা হাসিরানি রথের পক্ষে কতটা রায় দেন এবং ভোটের বাক্সে শেষ হাসি কার কপালে ফোটে।