পুজোর আগে রেস্তোরাঁ মালিকদের বড় স্বস্তি! এনওসি ও ফায়ার লাইসেন্সের জটিল নিয়ম সরাচ্ছে দমকল?

দুর্গাপুজোর ঠিক আগে শহরের বিভিন্ন শপিংমল ও হাসপাতালের পর এবার রেস্তোরাঁগুলোর অগ্নি নিরাপত্তা এবং ক্রেতাদের সুরক্ষা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করল পশ্চিমবঙ্গ দমকল বিভাগ। সোমবার ধর্মতলার একটি নামী হোটেলে রেস্তোরাঁ মালিকদের জাতীয় স্তরের সংগঠন ‘ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’ (NRAI) কলকাতা শাখা ও রাজ্য দমকল ও জরুরি পরিষেবা দফতরের যৌথ উদ্যোগে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রেস্তোরাঁ শিল্পে ফায়ার লাইসেন্স, এনওসি (NOC) এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতা নিরসনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

বৈঠকে রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে লাইসেন্স পাওয়ার দীর্ঘসূত্রিতা এবং নিয়মের কড়াকড়ি সংক্রান্ত নানা সমস্যার কথা দমকল আধিকারিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। এই উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে দমকল বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ADG) অভিজিৎ পান্ডে জানান যে, কেন্দ্রীয় সরকারের ফায়ার সেফটি নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে রেস্তোরাঁ মালিকদের সুবিধা দিতে নিয়মে উল্লেখযোগ্য শিথিলতা আনার কথা চিন্তাভাবনা করছে রাজ্য সরকার। ভবিষ্যতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সংক্রান্ত নিয়মাবলীতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে এবং রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে আইন সংশোধনের মাধ্যমে বিষয়টিকে আরও সরল করার কথা ভাবা হচ্ছে।

এদিনের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনআরএআই-এর কলকাতা চ্যাপ্টার হেড পীযূষ কাঁকারিয়া, দমকলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অভিজিৎ পান্ডে, আধিকারিক শ্যাম চন্দ্র মণ্ডল, উত্তর কলকাতার ডিএফও সরোজ কুমার বাগ, দক্ষিণ কলকাতার ডিএফও নিহার রায়, হেডকোয়ার্টারের ডিওএফপি-১ রঞ্জন কুমার ঘোষ, এবং হেডকোয়ার্টার ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার অরুণ পট্টনায়ক ও এফপি সেকশনের সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায়।

বৈঠক শেষে এনআরএআই কলকাতা শাখার হেড পীযূষ কাঁকারিয়া জানান, দমকল দফতরের সঙ্গে এই আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং তাঁরা বেশ কিছু ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। বিশেষ করে সেলফ ডিক্লারেশন (Self-Declaration), নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) এবং ফায়ার লাইসেন্স সার্টিফিকেট পাওয়ার পদ্ধতিকে একত্রিত ও সহজতর করার একটি বিশেষ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পুজোর মরসুমে সাধারণ মানুষের ভিড় এবং সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, দমকলের এই পদক্ষেপে শহরের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী মহল যেমন স্বস্তি পেয়েছে, তেমনই সাধারণ ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বড় পদক্ষেপ করা হলো।