‘ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেওয়া যায় না!’ দিল্লির পাতিয়ালা হাউজ কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে বড় স্বস্তি তরুণদের!

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে আয়োজিত প্রতিবাদ মিছিল থেকে গ্রেফতার হওয়া ১৭ জন ছাত্র ও যুবকে বড় আইনি স্বস্তি দিল আদালত। গত সোমবার গভীর রাতে পাটিয়ালা হাউজ কোর্টের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (JMFC) অনিমেশ কুমার ধৃত সমস্ত পড়ুয়ার জামিন মঞ্জুর করেছেন। একইসঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে জেল কর্তৃপক্ষকে ধৃতদের উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় রুজু হওয়া এফআইআর-এর ভিত্তিতে ওই পড়ুয়াদের আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। সোমবার রাতে চারটি পৃথক আদেশে ১৭ জনের জামিন মঞ্জুর করা হয়। বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি গুরুতর হলেও তাঁরা কোনো ‘নিয়মিত অপরাধী’ নন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, “অভিযুক্তরা অত্যন্ত তরুণ এবং তাঁদের বয়স কম। যেহেতু তাঁরা ছাত্র এবং তাঁদের সমগ্র কেরিয়ার সামনে পড়ে রয়েছে, তাই তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে দীর্ঘ সময় জেলে আটকে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
জামিন মঞ্জুর করার পাশাপাশি আদালত বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছে। নির্দিষ্ট বন্ড ও সমপরিমাণ জামিনদার জমা দেওয়ার পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, মামলার সাক্ষীদের কোনোভাবেই প্রভাবিত করা যাবে না এবং প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা চলবে না। এছাড়া অভিযুক্তদের নিজেদের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং সর্বদা চালু থাকা মোবাইল নম্বর তদন্তকারী সংস্থাকে জমা দিতে হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নিয়মিত শুনানিতে হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শর্ত লঙ্ঘন করলে অবিলম্বে জামিন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আদালত।
অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে ধৃত ছাত্ররা একটি বেআইনি জমায়েতের অংশ হয়ে রাস্তা অবরোধ করেন, সরকারি কর্মীদের ওপর চড়াও হন এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করেন। এই যুক্তিতে পুলিশ ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের আবেদন জানিয়েছিল। তবে এর বিপরীতে ধৃতদের মধ্যে দু’জন আদালতে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন যে, পুলিশি আটকের পর তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ডিসিপি (DCP)-এর কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে আদালত। পাশাপাশি, সংঘাতে আহত বন্দীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেল সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।