পুজোর মুখে চরম দুর্ভোগ! বোনাস ও বকেয়া মজুরির দাবিতে মালবাজারে ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ চা-শ্রমিকদের!

উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে বোনাস এবং বকেয়া মজুরির দাবিতে মালবাজার সংলগ্ন সোনগাছি চা-বাগানের শ্রমিকরা ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভে শামিল হলেন। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী গত ৫ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত শ্রমিকের বোনাস মিটিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও, ৬ অক্টোবর পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিকরা। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় সড়কের উভয় দিকে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে এবং চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা।

এদিন সকালে সোনগাছি চা-বাগানের ফ্যাক্টরির সামনে শ্রমিকরা এক বিশাল গেট মিটিং করেন। ভারতীয় টি-ওয়ার্কার ইউনিয়নের অ্যাডভাইজার অরবিন্দ কেরকাট্টার নেতৃত্বে শ্রমিকরা দীর্ঘক্ষণ সড়কের পাশে অবস্থান বিক্ষোভ করার পর বাধ্য হয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। আন্দোলনকারী শ্রমিকদের অভিযোগ, বাগান কর্তৃপক্ষ বারবার বোনাস দেওয়ার ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্দিষ্ট তারিখ পেরিয়ে গেলেও টাকা মেটায়নি। বোনাসের পাশাপাশি বিগত প্রায় দেড় থেকে দুই মাসের বকেয়া মজুরিও আটকে রয়েছে। ছয় মাসের শিশু কোলে নিয়ে এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া সুমন্তী ওঁরাও নামের এক নারী শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, উৎসবের এই দিনে পরিবার নিয়ে তাঁদের না খেয়ে মরার জোগাড় হয়েছে।

অবরোধের জেরে এএইচআরসি এবং ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। কলকাতা থেকে ডুয়ার্সে ঘুরতে আসা পর্যটিকা দীপিকা মাঝি জানান, ছোট বাচ্চা সঙ্গে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকায় তাঁরা গভীর সংকটের মধ্যে পড়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মেটিলি থানার আইসি মিংমা লেপচার নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও শ্রমিকরা লিখিত প্রশাসনিক আশ্বাস ছাড়া অবরোধ তুলতে অস্বীকার করেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মহকুমার অ্যাসিস্ট্যান্ট লেবার কমিশনার শুভ্রজ্যোতি সরকার জানান যে, শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং মালিকপক্ষকে অবিলম্বে বোনাসের নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মহকুমাশাসক উৎকর্ষ খান্ডাল ও মালবাজারের বিধায়ক শুক্রা মুণ্ডাও শ্রমিকদের দাবিকে সম্পূর্ণ ন্যায্য বলে উল্লেখ করে দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছেন। তবে লিখিত সরকারি নির্দেশিকা না পাওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনড় অবস্থানে অনড় রয়েছেন ক্ষুব্ধ চা-শ্রমিকরা।