পুজোর আগে বড় চমক! নামমাত্র মূল্যে রেশনে মিলবে চিনি, ময়দা ও সুজি, বড় ঘোষণা সরকারের

দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যবাসীর জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর। পুজোর আনন্দকে দ্বিগুণ করতে রেশনে একেবারে অর্ধেক দামে রান্নার প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়ার মেগা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। নামমাত্র মূল্যে চিনি, ময়দা ও সুজির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস হাতে পেয়ে দারুণ খুশি সাধারণ মানুষ।
শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া এই নতুন ‘ফেস্টিভ প্যাকেজ’-এর কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, রাজ্যের প্রায় ২ কোটি ১২ লক্ষ মানুষ এই বিশেষ সুবিধার আওতায় আসতে চলেছেন।
কাদের জন্য এই বিশেষ সুবিধা?
খাদ্যমন্ত্রী জানান, বিগত দিনে রেশন কার্ড ব্যবহারকারী মাত্র ১০ শতাংশ গ্রাহক পুজোর সময় এই ধরনের বিশেষ সুবিধা পেতেন। প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে সীমিত সংখ্যক মানুষই সস্তায় চিনি, ময়দা বা সুজি পাওয়ার সুযোগ পেতেন। তবে বর্তমান সরকার সেই নিয়ম বদল করে রাজ্যের সব রেশন কার্ড হোল্ডারকেই এই সুবিধার আওতায় নিয়ে এসেছে। ধর্মীয় কোনো বিভাজন না রেখে রাজ্যের প্রায় ২ কোটি ১২ লক্ষ পরিবারকে এই পুজোর উপহার দেওয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “আমাদের সরকার জনগণের সরকার। আমরা ধর্মভিত্তিক কোনো বিভাজনে বিশ্বাস করি না। দুর্গাপুজোর সময় এই প্যাকেজ কিন্তু শুধুমাত্র একটি সম্প্রদায়ের জন্য নয়, সমস্ত রেশন কার্ড হোল্ডার পরিবার এই সুবিধা পাবে।”
প্যাকেজে কী কী থাকছে এবং দাম কত?
নতুন এই ‘ফেস্টিভ প্যাকেজ’-এর আওতায় নামমাত্র ও অর্ধেক দামে রাজ্যবাসীকে খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ করা হবে। এক নজরে দেখে নিন কোন জিনিসের কী দাম নির্ধারণ করা হয়েছে:
ময়দা: প্রতি কেজি মাত্র ১৯ টাকা।
চিনি: প্রতি কেজি মাত্র ৩০ টাকা।
সুজি: ২৫০ গ্রাম (সুজির নির্ধারিত দাম এবং অন্যান্য খুঁটিনাটি শীঘ্রই চূড়ান্ত করা হচ্ছে)।
খাদ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই বিশাল প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ১১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এমনকি রাজ্যবাসীর জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে খাদ্যদ্রব্য দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে একেবারে অর্ধেক দামে এই সামগ্রীগুলো দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গুণগত মানে আপস নয়
বিগত সরকারের আমলে রেশনে দেওয়া খাদ্যদ্রব্যের গুণগত মান নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে খাদ্যমন্ত্রী জোরালোভাবে জানান, অতীতের কথা মাথায় রেখে বর্তমান সরকার গুণগত মানের সঙ্গে কোনো রকম আপোস করবে না। সাধারণ মানুষের হাতে উন্নত মানের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
পুজোর মুখে বাজারের চড়া দামের বাজারে রেশনের এই অর্ধেক দামের প্যাকেজ সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের হেঁশেলে বড় স্বস্তি আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে।